ঢাকা    সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ ১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ভোটার আইডি করতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ, কর্মকর্তা শোকজ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলমের বিরুদ্ধে নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টাকা নেওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।ভুক্তভোগী রাসেল মোল্লা নিজেকে বাহরাইনপ্রবাসী উল্লেখ করে জানান, ছুটিতে দেশে এসে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিসে যান। তার দাবি, কাজটি করে দেওয়ার জন্য নির্বাচন কর্মকর্তা তার কাছে ৫ হাজার টাকা চান।রাসেল মোল্লা বলেন, আর্থিক সমস্যার কথা জানিয়ে অনুরোধ করার পর তিনি শেষ পর্যন্ত ২ হাজার টাকা দেন। এরপর তার ভোটার নিবন্ধনের কাজ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে জন্মনিবন্ধনের তথ্য ব্যবহার করে পাসপোর্ট তৈরি করে বিদেশে গিয়েছিলেন। বর্তমানে নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার জন্য নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করেছিলেন।রাসেল আরও অভিযোগ করেন, অসুস্থতার কথা জানানোর পরও তাকে কয়েক দিন অফিসে ঘোরানো হয়। টাকা দেওয়ার পরই তার কাজ সম্পন্ন হয় বলে দাবি করেন তিনি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একজন কর্মকর্তাকে নিজের চেয়ারে বসে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে এবং ওই অর্থ কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল, তা এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আরও কয়েকজন ব্যক্তি গোয়ালন্দ নির্বাচন অফিসে সেবা নিতে গিয়ে অর্থ দাবি করার অভিযোগ তুলেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন দাবি করেন, জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের কাজ করতে তাকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়েছিল। এসব অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।অভিযোগের বিষয়ে খবিরুল আলম বলেছেন, তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এ অবস্থায় তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না।গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা জানিয়েছেন, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।রাজবাড়ী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ জালাল উদ্দীনও জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়ে তারা অবগত হয়েছেন এবং অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে।ফরিদপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম শাহ্ জানিয়েছেন, খবিরুল আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।নির্বাচন কমিশনের ফরিদপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের সরকারি তথ্যেও মো. মাহবুব আলম শাহ্ বর্তমানে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ আছেন। এদিকে ৭ সেপ্টেম্বরের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে খবিরুল আলমকে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। 

ভোটার আইডি করতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ, কর্মকর্তা শোকজ