ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

আগেই সতর্ক করেছিলেন সেনাপ্রধান, এখন সেই বিষয়ে ভুগছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রায় দুই মাস আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মজুত নিয়ে গুরুতর সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তৎকালীন মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জ। তাঁর মূল্যায়ন ছিল, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কৌশলগতভাবে কম থাকবে এবং এই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।জর্জের এই সতর্কবার্তা উঠে এসেছে পেন্টাগনের ২০২৭ অর্থবছরের জন্য তৈরি বৈশ্বিক বাহিনী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায়। সেখানে বিশেষ করে থাড বা THAAD এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর মজুত নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হয়েছিল। বিষয়টি সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ সাত মাসের বেশি সময় ধরে চলছে। ফলে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে জর্জের পুরোনো সতর্কবার্তা এখন নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই সংকট তৈরি হলো কেন?মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর কিয়েভকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ, ইসরায়েলকে রক্ষায় বিপুল পরিমাণ প্রতিরক্ষা গোলাবারুদ ব্যবহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পের সীমিত উৎপাদন সক্ষমতা মিলে মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।অর্থাৎ সমস্যা শুধু যুদ্ধের কারণে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা, একাধিক সামরিক সংঘাতে গোলাবারুদের ব্যবহার এবং মিত্রদের সরবরাহের চাপও এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে।এদিকে জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জকে গত এপ্রিল মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সেনাবাহিনীর প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেন। তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে অবসর নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জর্জের ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের সতর্কবার্তার কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাঁর অপসারণের বিষয়ে বিভিন্ন কারণের কথা সামনে এলেও, এই নির্দিষ্ট সতর্কবার্তার সঙ্গে অপসারণের সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত করা হয়নি।আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সংকট নিয়ে প্রকাশিত দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র দাবি করেছেন, মার্কিন অস্ত্রের ঘাটতির কথা অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। তবে স্বাধীন বিশ্লেষণেও ইন্টারসেপ্টর পুনরায় মজুত করতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টি উঠে এসেছে। বিশেষ করে থাড ও প্যাট্রিয়টের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো সহজ নয়।ফলে জেনারেল জর্জের সতর্কবার্তা এখন শুধু একটি পুরোনো সামরিক মূল্যায়ন নয়। ইরান যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং একসঙ্গে একাধিক অঞ্চলে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের পর প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার মজুত কতটা চাপের মুখে পড়বে?

আগেই সতর্ক করেছিলেন সেনাপ্রধান, এখন সেই বিষয়ে ভুগছে যুক্তরাষ্ট্র