ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

২০২৭ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষায় যুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি শিক্ষা

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিকের চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে দুটি নতুন বিষয়। শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ক্রীড়া’ ও ‘সংস্কৃতি শিক্ষা’ নামে আলাদা দুটি বই অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ডিসেম্বর বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিনই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার।বুধবার (৪ নভেম্বর) হবিগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত ‘পাঠচক্র: আনন্দ পাঠের আসর-২০২৬’ ও শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রচলিত পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি ক্রীড়া ও সংস্কৃতিবিষয়ক দুটি নতুন বই পাবে।নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রস্তুতি সম্পর্কে ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামী ২৪ ডিসেম্বর প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হবে। একই দিন তাদের হাতে ২০২৭ সালের নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হবে।নতুন দুটি বই যুক্ত করার মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।শিক্ষার মূলধারার বাইরে থাকা শিশুদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।তিনি বলেন, আট বছর বয়স হয়ে গেলেও যেসব শিশু এখনো প্রাথমিক শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি, তাদের জন্য ‘আলো’ নামে একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছে।এই প্রকল্পের আওতায় ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ শিক্ষাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাদের ভাষা ও গণিত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষায় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এর মাধ্যমে বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা এবং শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া শিশুদের আবারও নিয়মিত শিক্ষাব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।মতবিনিময় সভার আগে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।প্রথমে তিনি এসএম ফয়সল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। সেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান।পরিদর্শনকালে বিদ্যালয়ের পাঠদান, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্কুল ফিডিং কর্মসূচির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন প্রতিমন্ত্রী।পরে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জগদীশপুর চা-বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম দেখার পাশাপাশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামাসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।হবিগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ, সিভিল সার্জন রত্নদ্বীপ বিশ্বাসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।সভায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, নতুন পাঠ্যবই সংযোজন এবং বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

২০২৭ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষায় যুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি শিক্ষা