রাজশাহীতে সিনেমা স্টাইলে ক্রিকেটারদের লাগেজ চুরি, গ্রেপ্তার ৪
এরপর মোটরসাইকেল থেকে লাফ দিয়ে কাভার্ডভ্যানের পেছনে ওঠে এক ব্যক্তি। ভাঙা হয় দরজার তালা। চলন্ত অবস্থাতেই ভ্যান থেকে নামিয়ে নেওয়া হয় আটটি লাগেজ। সিনেমার দৃশ্যের মতো এই কৌশলেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেটারদের লাগেজ চুরির অভিযোগ উঠেছে।ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। উদ্ধার করা হয়েছে চুরি যাওয়া মালামালের একটি বড় অংশ। তবে ক্রিকেটার এসএম মেহেরব হাসানের লাগেজে থাকা তিন লাখ টাকা এখনো উদ্ধার হয়নি।বুধবার, ১৪ অক্টোবর ভোরে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে রাজশাহীতে ফিরছিলেন স্বাগতিক বিভাগের ক্রিকেটাররা।ক্রিকেটারদের মোট ৫৪টি লাগেজ একটি কাভার্ডভ্যানে করে ঢাকা থেকে রাজশাহী নেওয়া হচ্ছিল। রাজশিয়ায় পৌঁছে হোটেলে লাগেজ নামানোর সময় দেখা যায়, আটটি লাগেজ নেই।এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। ক্রিকেটার মেহেরব হাসান রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।তদন্তে জানা যায়, যাত্রাপথে চালক একাধিকবার কাভার্ডভ্যানের পেছনের দরজার তালা পরীক্ষা করেছিলেন। সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড় এবং নাটোরের হরিশপুর বাইপাসেও তালা ঠিকঠাক ছিল বলে পুলিশের তথ্য রয়েছে। ফলে ঠিক কোথায় এবং কীভাবে লাগেজগুলো ভ্যান থেকে নামানো হয়েছে, সেটিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করে রাজশাহী জেলা ডিবি পুলিশ। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ভোরে পুঠিয়ার তারাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার মোজাম্মেল হক, পুঠিয়ার সোহান রহমান, রুবেল আহমেদ ও শাহাদত হোসেন।পুলিশ জানিয়েছে, শাহাদত হোসেনের বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, ৩০০ মার্কিন ডলার, একটি ল্যাপটপ, ম্যাসাজ বেড, চারটি প্লাস্টিকের বাক্স ও আট হাজার টাকা। চুরির কাজে ব্যবহৃত তালা ভাঙার সরঞ্জাম এবং একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।তবে নিখোঁজ আটটি লাগেজের সব মালামাল এখনো উদ্ধার হয়নি। বিশেষ করে মেহেরব হাসানের লাগেজে থাকা তিন লাখ টাকা এখনো পাওয়া যায়নি।জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিখোঁজ লাগেজগুলোর কয়েকটিতে ক্রিকেটারদের পাসপোর্ট, আইফোন, ডলার ও নগদ অর্থ ছিল। ফলে ঘটনাটি শুধু আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত ও ভ্রমণ নথি হারানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে।পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগের মামলাও রয়েছে। এ ঘটনায় পুঠিয়া থানায় মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।তবে লাগেজগুলো ঠিক কোন স্থানে ভ্যান থেকে নামানো হয়েছিল এবং চুরির ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তে এখনো স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায়।