ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা রোধে দেশের অভ্যন্তরেই বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং রোগীবান্ধব মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেক্টাল সার্জনস (বিএসসিআরএস) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘কোলোরেক্টাল সার্জারি সম্মেলন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি সেবার মান এবং আস্থার সংকটের কারণে প্রতিবছর দেশের বহু রোগী বাধ্য হয়ে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান। এর ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যায়। এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের ও জনবান্ধব রূপ দিতে হবে। চিকিৎসাসেবাকে কেবল একটি পেশা নয়, বরং মানুষের জীবন ও মানবিক মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত মহান দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোগীর প্রতি চিকিৎসকদের সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ, রোগের অবস্থা ও চিকিৎসার বিষয়টি সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোনো নাগরিক যেন উপযুক্ত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।বিগত সরকারের স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির সমালোচনা করে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসন, অব্যবস্থাপনা এবং অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে দেশের স্বাস্থ্য খাত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও টেকনিশিয়ান না থাকা সত্ত্বেও সরকারি অর্থ অপচয় করে দামি যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে, যার বহুলাংশ এখনও অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টেকনিশিয়ান নিয়োগে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছিল। এসব অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকারের নেওয়া উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দের প্রতিটি টাকার স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া প্রান্তিক পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দিতে দেশের ১০০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১৫০ শয্যায় রূপান্তর এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।সম্মেলনে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের কোলোরেক্টাল রোগে আক্রান্ত হওয়া এবং লজ্জা ও সংকোচের কারণে যথাসময়ে চিকিৎসা না নেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় আয়োজকদের পক্ষ থেকে একটি ‘জাতীয় কোলোরেক্টাল সার্জারি ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে রাষ্ট্রপতি তাতে সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত ও প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। উদ্বোধনী পর্বে বিএসসিআরএসের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।বিএসসিআরএসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সাহাদত হোসেন শেখ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ ও মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, বিসিপিএস সভাপতি অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর এবং বিএমএর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক।

দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির