গবেষণার মাঠ উদ্ধারে এবার নির্মাণসামগ্রী নিয়ে গেলেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) নিজস্ব গবেষণা মাঠে নতুন সচিবালয় স্থাপনের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে চলমান মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট)-এর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। গবেষণা মাঠ অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর এবং সেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাসহ যেকোনো বাণিজ্যিক বা প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে পুরাতন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠে পূর্বঘোষিত গণজমায়েত কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষার্থীরা সয়েল টেস্টের যন্ত্রপাতিগুলো ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। একই সঙ্গে মাঠ পুনরুদ্ধারের সুনির্দিষ্ট দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন।বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণা মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে বেদখল থাকায় ব্যবহারিক শিক্ষা, উচ্চতর কৃষি গবেষণা এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মতো অপরিহার্য শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কৃষিবিদ তৈরির সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠের বৃহত্তর একাডেমিক স্বার্থে মাঠটি পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। একই সঙ্গে তাঁরা পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটিকে চূড়ান্ত আলটিমেটাম দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, গবেষণার জন্য নির্ধারিত এ জমি কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজেই ব্যবহার করতে হবে এবং সেখানে সচিবালয় বা অন্য কোনো স্থায়ী স্থাপনা কোনোভাবেই নির্মাণ করা যাবে না।এর আগে গত ১৫ অক্টোবর গবেষণা মাঠটি দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমন্বয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিনই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী জানান, পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সাধারণত সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যানদের সভায় গ্রহণ করা হয়। আপাতত পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সার্বিক উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সাধারণ সভায় পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে যখন প্রথম শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তখন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘টেক ব্যাক শেকৃবি ল্যান্ড’ শীর্ষক বড় সমাবেশের মাধ্যমে মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জোরালো করা হয়।