ঢাকা    বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ ৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মাতৃত্বের পর নিজেকে নতুন করে খুঁজেছেন কিয়ারা আদভানি

গত ২৬ আগস্ট মুক্তি পেয়েছে যশ ও কিয়ারা আদভানি অভিনীত ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’। সিনেমাটি মুক্তির আগে থেকেই কিয়ারার চরিত্র ও ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। একজন বিবাহিত নারী ও মা হিসেবে এমন দৃশ্যে তাঁর অভিনয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকে। কিয়ারার সহশিল্পী হুমা কুরেশিসহ কয়েকজন তারকা সেই সমালোচনার বিরোধিতা করেন।তবে পর্দার আলোচনা থেকে আলাদা করে মাতৃত্বের পর নিজের জীবনের পরিবর্তন নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন কিয়ারা।রাজ শামানির ‘Figuring Out’ পডকাস্টে কিয়ারা জানান, মা হওয়ার পর তাঁর শারীরিক ও মানসিক জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। পুরো অভিজ্ঞতাকে তিনি নিজের পরিচয়ের এক বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখেছেন। এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুতও হয়ে পড়েছিলেন অভিনেত্রী।২০২৫ সালের জুলাইয়ে স্বামী সিদ্ধার্থ মালহোত্রার সঙ্গে প্রথম সন্তানের মা হন কিয়ারা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মা হওয়ার পরের কয়েক মাসে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লেগেছে। নিজের প্রতি আরও সহনশীল হওয়া এবং সবকিছু দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার চাপ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন তিনি।কিয়ারা মনে করেন, সন্তান জন্মের পর একজন নারীর জীবনে শুধু শারীরিক পরিবর্তনই আসে না, বদলে যেতে পারে তাঁর মানসিক অবস্থা, দৈনন্দিন জীবন ও নিজের সম্পর্কে ধারণাও। তাই প্রসব-পরবর্তী সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে আরও খোলামেলা আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।এই কঠিন সময়ে স্বামী সিদ্ধার্থ মালহোত্রার কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতার কথাও বলেছেন কিয়ারা।তিনি জানান, কোনো কোনো রাতে আবেগ বা মানসিক চাপ বেড়ে গেলে সিদ্ধার্থ তাঁকে গাড়িতে করে বাইরে নিয়ে যেতেন। কিয়ারা তখন নিজের মনের কথা খুলে বলতেন। সিদ্ধার্থ সব সমস্যার সমাধান দেওয়ার চেষ্টা না করে অনেক সময় শুধু তাঁর কথা শুনতেন।কিয়ারার অভিজ্ঞতায়, কঠিন সময়ে সবসময় পরামর্শ বা সমাধানের প্রয়োজন হয় না। কখনো একজন কাছের মানুষের উপস্থিতি এবং বিচার না করে কথা শোনাটাই বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠতে পারে।মাতৃত্বের পর নিজের পরিচয় নিয়েও নতুন করে ভাবতে হয়েছে তাঁকে। সন্তানের যত্নকে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখলেও নিজের বিশ্রাম, মানসিক সুস্থতা ও ব্যক্তিগত সময়ের প্রয়োজনকেও গুরুত্ব দিতে শিখেছেন তিনি।কিয়ারার বক্তব্য অনুযায়ী, মা হওয়ার পর নিজের জন্য কিছুটা সময় চাওয়া বা নিজের মানসিক অবস্থার দিকে নজর দেওয়াকে অপরাধবোধের বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং নতুন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পথে নিজের প্রতিও সহানুভূতিশীল হওয়া জরুরি।প্রসব-পরবর্তী অভিজ্ঞতা অবশ্য সব নারীর ক্ষেত্রে একরকম নয়। শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের ধরন এবং তীব্রতা ব্যক্তি ভেদে আলাদা হতে পারে। কিয়ারার বক্তব্য মূলত তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন।এদিকে ‘টক্সিক’-এ কিয়ারার অভিনয় নিয়ে বিতর্ক থাকলেও চরিত্রটি নিয়ে তিনি ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছেন। ছবিতে তাঁর চরিত্রের নাম নাদিয়া। সিনেমাটিতে যশ, নয়নতারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া ও রুক্মিণী বসন্তও অভিনয় করেছেন।

মাতৃত্বের পর নিজেকে নতুন করে খুঁজেছেন কিয়ারা আদভানি