ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

অভিযোগের জেরে গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে পদত্যাগে বলল হোয়াইট হাউস

একাধিক গুরুতর অভিযোগের মধ্যেই গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বার্লি গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলেছে হোয়াইট হাউস। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর বিষয়টি নিশ্চিত করার পরই গিলফয়েল জানান, তার দায়িত্বের সময় শেষ হয়ে আসছে।হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া বলেন, প্রশাসন গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলেছে। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবে গিলফয়েলের অবদানের প্রশংসা করে তার ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানান।এর কিছুক্ষণ পর গিলফয়েলের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্রও হোয়াইট হাউসে পৌঁছায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, গিলফয়েলকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো ভূমিকা রেখেছে। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে গিলফয়েলের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেননি বলে জানান।কিন্তু কী এমন অভিযোগ উঠেছে, যার পর এত দ্রুত বদলে গেল পরিস্থিতি?গিলফয়েলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো, রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার আগে তিনি ট্রাম্পের এক সমর্থক ও দাতার কাছে ১ লাখ ডলার চেয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থটি তার ব্যক্তিগত আমেরিকান এক্সপ্রেস বিল পরিশোধে ব্যবহার করার কথা ছিল। বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির অভিযোগও উঠেছে।অভিযোগটি করেছেন ট্রাম্প-সমর্থক ও সাবেক কংগ্রেস প্রার্থী এরিক ডিটার্স। তার দাবি, গিলফয়েল অর্থের বিনিময়ে প্রশাসনের ভেতরে প্রভাব ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে তিনি ওই অর্থ দেননি।গিলফয়েলের আইনজীবীরা অবশ্য অভিযোগটি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ডিটার্সের কাছে গিলফয়েলের বক্তৃতা ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করার পাওনা অর্থ ছিল। সেই অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছিল, কোনো রাজনৈতিক সুবিধা বিক্রির জন্য নয়।এখানেই শেষ নয়। গিলফয়েলের বিরুদ্ধে দামি উপহার ও বিলাসবহুল আতিথেয়তা গ্রহণ এবং গ্রিসের একটি নির্মাণ ও জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের লবিস্টকে সরকারি বৈঠকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের কিছু অংশ তার রাষ্ট্রদূত হওয়ার আগের সময়ের, আবার কিছু অভিযোগ দায়িত্ব পালনের সময়কে ঘিরে।গিলফয়েল সব অভিযোগকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, নিজের নাম, সুনাম ও সততা রক্ষায় তিনি জোরালোভাবে লড়বেন।এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় গিলফয়েল ও গ্রিসে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত করছে। ফলে পদত্যাগের পরও অভিযোগগুলোর আইনি ও প্রশাসনিক পরিণতি সামনে আসতে পারে। গিলফয়েল ট্রাম্প পরিবারেরও ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি একসময় ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে বাগ্‌দান করেছিলেন। ট্রাম্প অবশ্য মঙ্গলবার স্পষ্ট করে বলেন, গিলফয়েল এখন তার পরিবারের সদস্য নন এবং তার ছেলের সঙ্গে সম্পর্কের অবসান ঘটেছে অনেক আগেই।২০২৫ সালে গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া গিলফয়েলের কূটনৈতিক অধ্যায় শেষ হওয়ার পেছনে এখন পর্যন্ত মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ এবং তা নিয়ে চলমান বিতর্ক। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

অভিযোগের জেরে গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে পদত্যাগে বলল হোয়াইট হাউস