ঢাকা    শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

যানবাহনে নামাজ পড়ার সময় কিবলার বিধান কী?

নামাজ মুমিনের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি এমন একটি ফরজ আমল, যা সুস্থতা-অসুস্থতা, সফর কিংবা অবস্থান পরিবর্তনের কারণেও মওকুফ হয় না। তবে ইসলাম মানুষের বাস্তব পরিস্থিতি ও সামর্থ্যকে বিবেচনায় রেখে ইবাদতের ক্ষেত্রে সহজতা দিয়েছে।আজকের যুগে বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও উড়োজাহাজে দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করতে গিয়ে অনেক সময় নামাজের ওয়াক্ত চলে আসে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে কিবলামুখী হয়ে নামাজ আদায় করা সবসময় সম্ভব হয় না। তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— যানবাহনে নামাজ পড়া যাবে কি এবং কিবলামুখী হওয়া কি বাধ্যতামূলক?নামাজ কখনো মওকুফ নয়ইসলামে নামাজ ফরজ ইবাদত হিসেবে নির্ধারিত। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—‘তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করো এবং যাকাত আদায় করো।’ (সুরা আল-বাকারা: ৪৩)অন্য আয়াতে বলা হয়েছে—‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা আন-নিসা: ১০৩)এ থেকে বোঝা যায়, যেকোনো পরিস্থিতিতেই নামাজ সময়মতো আদায় করা আবশ্যক।সফরে নামাজ আদায়ের ইসলামী বিধানইসলাম সহজতার ধর্ম। আল্লাহ তাআলা বলেন—‘তোমরা সাধ্যানুযায়ী আল্লাহকে ভয় করো।’ (সুরা আত-তাগাবুন: ১৬)রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—‘আমি তোমাদের যেটির নির্দেশ দিই, তা তোমরা সাধ্যানুযায়ী পালন করো।’ (বুখারি, মুসলিম)তাই সফরের অবস্থায়ও সামর্থ্য অনুযায়ী নামাজ আদায় করতে হবে।যানবাহনে নামাজ আদায়বাস, ট্রেন বা লঞ্চে যদি স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে রুকু-সিজদা করা সম্ভব না হয়, তাহলে পরিস্থিতি অনুযায়ী বসে বা ইশারায় নামাজ আদায় করা যায়। তবে সুযোগ থাকলে—গন্তব্যে পৌঁছে নামাজ আদায় করা উত্তম গাড়ি থামলে নেমে নামাজ পড়া উত্তম নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে যানবাহনের ভেতরেই নামাজ পড়া যাবে[BANGVIEWS-POST:186]ট্রেন, লঞ্চ ও উড়োজাহাজে নামাজট্রেন বা লঞ্চে জায়গা থাকলে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে হবে। না থাকলে বসে নামাজ পড়া বৈধ।উড়োজাহাজেও নামাজ আদায় করা যায়। সামর্থ্য অনুযায়ী কিবলা নির্ধারণ করে নামাজ পড়তে হবে।যানবাহনে কিবলামুখী হওয়া কি বাধ্যতামূলক?সাধারণ অবস্থায় ফরজ নামাজের জন্য কিবলামুখী হওয়া আবশ্যক। কোরআনে বলা হয়েছে—‘তোমরা তোমাদের মুখ মসজিদুল হারামের দিকে ফিরাও।’ (সুরা আল-বাকারা: ১৪৪)তবে সফরের বিশেষ অবস্থায় বিধান কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।যদি কিবলামুখী হওয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে নামাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কিবলার দিকে থাকা জরুরি। যানবাহনের দিক পরিবর্তন হলে সম্ভব হলে কিবলার দিকে ফিরে যেতে হবে।কিন্তু যদি কিবলা নির্ধারণ করা সম্ভব না হয় বা যানবাহন থেকে নামা নিরাপদ না হয়, তাহলে যেদিকে সম্ভব সেদিকে মুখ করে নামাজ আদায় করা যাবে।রাসুলুল্লাহ (সা.) সফরের সময় বাহনের ওপর নফল নামাজ আদায় করতেন, বাহন যেদিকেই থাকত। (বুখারি, মুসলিম)উপসংহারইসলাম কোনো অবস্থাতেই ইবাদতকে কঠিন করেনি। সফরের সময়ও নামাজ ফরজ থাকে, তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী সহজতার বিধান দেওয়া হয়েছে। তাই যানবাহনে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে সামর্থ্য থাকলে কিবলামুখী হওয়া উচিত, আর না থাকলে শরিয়তের অনুমোদিত সহজ পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করা যাবে। মুমিনের দায়িত্ব হলো— যেকোনো পরিস্থিতিতেই আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখা এবং নামাজকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা।

যানবাহনে নামাজ পড়ার সময় কিবলার বিধান কী?