দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে একের পর এক কঠোর সামরিক অবস্থান নেওয়ার পর এবার মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি প্রকাশ্য যুদ্ধে জড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের নজিরবিহীন প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি ওয়াশিংটনের সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।স্থানীয় সময় শনিবার (১০ অক্টোবর) জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ট্রাম্প এ কথা বলেন। খবর আলজাজিরার।ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, রিয়াদের বেসামরিক বিমানবন্দরে এই হামলাটি সম্পূর্ণ ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি দ্রুতই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। হুথিদের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয়ভাবে যোগ দেওয়া উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হয়তো যোগ দিতে পারি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। হামলার বিষয়ে মাত্রই তথ্য পেয়েছি, খুব দ্রুত এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিশ্চিত করেছেন, বিমানবন্দরটিতে হুথিদের চালানো হামলায় একজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে রুবিও এই ঘটনাকে ‘নিন্দনীয় বর্বরোচিত হামলা’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানান এবং ওয়াশিংটন সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও জনগণের পাশে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে বলে জানান।কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, শক্তিশালী একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একাংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি ভূখণ্ডে এটি হুথিদের চালানো সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা, যাতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ঘটনাটিকে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে রোববার থেকেই হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর ও চূড়ান্ত সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।ইয়েমেনের রিয়াদ-সমর্থিত সরকারের সঙ্গে হুথিদের যুদ্ধবিরতি গত জুলাইয়ে ভেঙে পড়ার পর থেকে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে গোষ্ঠীটির ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ক্ষেত্রে এই ঘটনাটি নতুন করে আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।সূত্র: আলজাজিরা