কার্বন বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর কার্বন মার্কেট গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত বাংলাদেশ কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্কবিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফাহমিদা খানম।পরিবেশমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে যুক্ত হতে পারলে বাংলাদেশ জলবায়ু অর্থায়ন, পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের নতুন সুযোগ পেতে পারে। তবে এই বাজার পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পরিবেশগত মান নিশ্চিত করতে হবে।[BANGVIEWS-POST:2676]কার্বন ক্রেডিট থেকে পাওয়া সুবিধা স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে ন্যায্যভাবে বণ্টনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান বা এনডিসি বাস্তবায়নে কার্বন মার্কেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো ও কার্বন অপসারণের সঠিক হিসাব, পর্যবেক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী যাচাই প্রয়োজন।প্যারিস চুক্তির আর্টিকেল-৬ অনুযায়ী পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে ডিজাইনেটেড ন্যাশনাল অথরিটি হিসেবে রেখে বাংলাদেশ কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্কের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের পার্টনারশিপ ফর মার্কেট ইমপ্লিমেন্টেশন কর্মসূচি এ কাজে সহযোগিতা করছে।সভায় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বেসরকারি পর্যায়ে সীমিত পরিসরে কার্বন ট্রেডিং হলেও সরকারি পর্যায়ে এখনো তা শুরু হয়নি। দ্রুত সরকারি কার্বন ট্রেডিং চালুর জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে দেশের উপকূলীয় এলাকায় দুই কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে কীভাবে কার্বন ক্রেডিট অর্জন করা যায়, তা নিয়েও কাজ চলছে।প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, বাংলাদেশ এখনো আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে পুরোপুরি প্রবেশ করতে পারেনি। দ্রুত এই বাজারে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি নিতে হবে।[BANGVIEWS-POST:2675]পরিবেশ সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে খসড়া ফ্রেমওয়ার্কটি আরও বাস্তবসম্মত করা হবে। এতে কার্বন ক্রেডিট অনুমোদন, হিসাবরক্ষণ, পর্যবেক্ষণ ও মুনাফা বণ্টনের জন্য একটি স্পষ্ট কাঠামো তৈরি হবে।সভায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ধরিত্রী কুমার সরকার কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্কের খসড়া উপস্থাপন করেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা প্রস্তাবিত কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত ও সুপারিশ দেন।প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করার পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।