মেঘনায় কার্গোর ধাক্কায় মাছ ধরার বোট ডুবি, দুই জেলে নিখোঁজ
চট্টগ্রাম থেকে কেনা নতুন মাছ ধরার ট্রলার (লালবোট) নিয়ে নোয়াখালীর হাতিয়ায় ফেরার পথে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় মেঘনা নদীতে বোটডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় বোটে থাকা তিন জেলের মধ্যে একজন জাহাজের শিকল ধরে প্রাণে বেঁচে গেলেও অপর দুই জেলে নদীতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন।রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে চট্টগ্রামের আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা জেলে কামাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।নিখোঁজ দুই জেলে হলেন মিরাজ উদ্দিন ও শরীফ উদ্দিন। তাঁদের দুজনের বাড়িই নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে। দুর্ঘটনা ও নিখোঁজের খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ এবং শোকের মাতম শুরু হয়।জীবিত উদ্ধার হওয়া কামাল উদ্দিন জানান, মাছ ধরার জন্য একটি কাঠের লালবোট কিনতে চার দিন আগে তাঁরা তিনজন চট্টগ্রামের বন্দরটিলা এলাকায় যান। বোটটি কেনার যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে রোববার রাতে সেটি নিয়ে তাঁরা হাতিয়ার উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীতে পৌঁছালে হঠাৎ বোটটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে বোটটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।কামাল উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রণহীন বোটটির পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি কার্গো জাহাজ ধাক্কা দিলে মুহূর্তের মধ্যেই তাঁদের লালবোটটি মেঘনার পানিতে ডুবে যায়। এ সময় তিনি দ্রুত কার্গো জাহাজের ঝুলন্ত শিকল শক্ত করে ধরে ফেলেন। পরে জাহাজের নাবিকেরা তাঁকে দেখতে পেয়ে টেনে তুলে উদ্ধার করেন। তবে অন্ধকার ও তীব্র স্রোতের কারণে বোটে থাকা অন্য দুই জেলে মিরাজ উদ্দিন ও শরীফ উদ্দিনের কোনো সন্ধান মেলেনি।এদিকে নিখোঁজ দুই জেলের পরিবারে এখন শুধুই কান্নার রোল। প্রিয়জনদের জীবিত বা মৃত যেকোনো অবস্থায় ফিরে পেতে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশের দ্রুত তৎপরতা এবং সহযোগিতা চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।এ বিষয়ে হাতিয়ার নলচিরা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আশিষ চন্দ্র সাহা জানান, স্থানীয় সূত্রে বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল সংলগ্ন সদরঘাট নৌ থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও উদ্ধার তৎপরতা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।