সারা দেশের ফাজিল-কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বাতিলের আদেশ হাই কোর্টে স্থগিত
সারা দেশের ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি এবং অ্যাডহক কমিটি বাতিল করে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের জারি করা অফিস আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কমিটিগুলো একযোগে বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করা হয়েছে।সোমবার (২ নভেম্বর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।ভোলার চরফ্যাশন কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসার সভাপতির করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন।আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী পারভেজ হোসেন।শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের তিনি জানান, মাদ্রাসার গভর্নিং বডি গঠন ও বাতিলের জন্য নির্দিষ্ট আইনি বিধান রয়েছে।তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো কমিটির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নিতে পারে।কিন্তু এ ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে একটি অফিস আদেশের মাধ্যমে সারা দেশের কমিটি বাতিল করা আইনসম্মত নয় বলে দাবি করেন তিনি।পারভেজ হোসেনের ভাষ্য, জরুরি কোনো পরিস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও নোটিশ বা তদন্ত ছাড়া সব কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এর আগে গত ১৯ অক্টোবর ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় সারা দেশের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি এবং অ্যাডহক কমিটি বাতিলের অফিস আদেশ জারি করে।বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এ কে মুহা. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই আদেশে ৪৩তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়।অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিদ্যমান কমিটিগুলো বাতিল করে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।এ জন্য সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলোকে বিধি অনুসারে নির্ধারিত ফরমে দ্রুত নতুন কমিটি অনুমোদনের প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই আদেশে নতুন অ্যাডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব কারা পালন করবেন, তা-ও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল।জেলা সদরে অবস্থিত মাদ্রাসার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসককে সভাপতি এবং জেলা সদরের বাইরে অবস্থিত মাদ্রাসার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে সভাপতি মনোনয়নের কথা বলা হয়।এ ছাড়া বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে জেলা পর্যায়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে মনোনয়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সংবিধি-২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান উল্লেখ করে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।আইনজীবী পারভেজ হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলো তৎকালীন বিভিন্ন কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে ভিন্ন উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এখন যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া একইভাবে সব কমিটি বাতিলের সুযোগ নেই।তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিদ্বেষমূলক।তবে এসব বক্তব্য রিট আবেদনকারীর আইনজীবীর অভিযোগ। হাইকোর্ট এখনো অফিস আদেশটিকে চূড়ান্তভাবে বেআইনি ঘোষণা করেননি।হাইকোর্টের আদেশের ফলে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ অক্টোবরের অফিস আদেশের কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত হলো।একই সঙ্গে ওই আদেশ কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেওয়া হয়েছে।রুলের বিষয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে হবে সংশ্লিষ্টদের।এদিকে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী।ফলে মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বাতিলের সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত আইনগত নিষ্পত্তি এখনো বাকি রয়েছে।