বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র বন্ধ, ময়লার স্তূপে ঢাকছে বানার নদের পাড়
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বানার নদের পাড়জুড়ে জমছে ময়লার স্তূপ। পানিতে ভাসছে পলিথিনসহ নানা অপচনশীল বর্জ্য। দুর্গন্ধে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন খেয়াঘাটের মাঝি, শিক্ষার্থী ও নিয়মিত পারাপার হওয়া মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ বছর ধরে কাপাসিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকার বর্জ্য এখানে ফেলা হচ্ছে।এমন পরিস্থিতির মধ্যেই রোববার পালিত হচ্ছে বিশ্ব নদী দিবস। অথচ খেয়াঘাট থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে থাকা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্রটি বন্ধ পড়ে আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।প্রথম আলোর সরেজমিন বিবরণ অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে বানার নদের খেয়াঘাটের বিভিন্ন স্থানে পচা সবজি, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্যের বড় স্তূপ দেখা যায়। কিছু বর্জ্য নদের পানিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধে ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন হয়ে পড়ে।এই ঘাট দিয়ে নদের উত্তর পাড়ের তরগাঁও এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ দুই পাড়ের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। বর্জ্যের স্তূপের পাশ দিয়েই তাঁদের নৌকায় ওঠানামা করতে হচ্ছে। এ সময় পাশের কাঁচাবাজারের কয়েকজন বিক্রেতাকে নদের বর্জ্যমিশ্রিত পানিতে সবজি ধুতেও দেখা যায়।স্থানীয়দের ভাষ্য, উপজেলা সদরের দোকানপাট এবং বিভিন্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার বর্জ্য এনে খেয়াঘাটের পাশে ফেলা হয়। দিন দিন স্তূপ বড় হচ্ছে। বৃষ্টির সময় দুর্গন্ধ আরও বেড়ে যায়।ঘাটের মাঝি মো. আসাদুল্লাহ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এই দুর্ভোগ সহ্য করছেন। বারবার একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে প্রতিকার পাওয়ার আশাও কমে গেছে।আরেক মাঝি সুধাস চন্দ্র মনিদাসের আক্ষেপ, ‘আমরা কারে কইয়াম? আমরার কথা কেউ হুনবো? মানুষের যে কষ্ট আইতাছে, এই জন্য কারও কিছু যায়-আসে না।’কাপাসিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মিত কাছের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্রটি ২০২৩ সালের অক্টোবরে উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সাল থেকে সেটি বন্ধ রয়েছে। কেন্দ্রটি নির্মাণে কত টাকা ব্যয় হয়েছিল, তা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা যায়নি।বাজারের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন সময়ে দায়িত্বে পরিবর্তন এলেও বর্জ্য সমস্যার সমাধান হয়নি। নতুন করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা তাঁর। ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামেরও অভিযোগ, মানুষ ও বর্জ্যের পরিমাণ বাড়লেও ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, খেয়াঘাটের পাশে নিয়মিত বর্জ্য ফেলার কারণে নদ ভরাটের পাশাপাশি পরিবেশদূষণ হচ্ছে। দ্রুত বর্জ্য অপসারণ এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রটি অকার্যকর থাকার কথা স্বীকার করেছেন কাপাসিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রটি লোকালয়ের মধ্যে হওয়ায় স্থানীয়দের আপত্তি রয়েছে। নতুন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্টের জন্য নদের পাড়ে জায়গা দেখা হচ্ছে। তবে সেটি কবে চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।