বিএসএফের গুলিতে আরেক বাংলাদেশি নিহত, গোপনে দাফনের চেষ্টা
সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তে মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে খালেদ আহমদ (২৩) নামে আরও এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশকে কোনো তথ্য না দিয়ে লাশ গোপনে বাড়িতে নিয়ে দাফনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে নিহতের পরিবারের বিরুদ্ধে।বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের দনা সীমান্তের ১৩৩৩ নম্বর মেইন পিলারের কাছে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত খালেদ আহমদ উপজেলার এরালীগুল গ্রামের মৃত ফজলু মিয়ার ছেলে। এর আগে গত ১০ অক্টোবর একই উপজেলার সোনাখেড় সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে শাহিন আহমদ নামে আরেক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারি হিসেবে পরিচিত ময়নুল হকের সঙ্গে খালেদ আহমদ দনা সীমান্তের মিকিরপাড়া এলাকা দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের আকুয়া এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই খালেদ মারা যান। পরে তাঁর লাশ সীমান্তের জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি পড়ে ছিল।স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন জানান, নিহত খালেদের ভাই সালাউদ্দিন বিষয়টি তাঁকে অবহিত করেন। সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, তাঁর ভাইকে বিএসএফ সরাসরি গুলি করে হত্যা করেছে এবং মরদেহ সীমান্তের জিরো পয়েন্টে পড়ে ছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি থানা পুলিশ ও বিজিবিকে জানানো হয়।এদিকে ঘটনার পর আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে পুলিশকে না জানিয়ে লাশ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম শুক্রবার সন্ধ্যায় জানান, সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে এক যুবক নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে নিহতের পরিবার এ বিষয়ে পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি। গোপনে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে দাফনের চেষ্টা চলছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে দনা বিজিবি ক্যাম্পের কর্মকর্তাদের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।