কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে ৯ দফা কর্মসূচি
কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা, তাদের যাবতীয় প্রকাশনা ও প্রচারসামগ্রী বাজেয়াপ্ত এবং কাদিয়ানিদের মুসলমানদের ধর্মীয় পরিভাষা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশ।শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত জাতীয় উলামা-মাশায়েখ সম্মেলন থেকে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। সম্মেলন শেষে ঘোষণাপত্রে দাবি ও কর্মসূচিগুলো তুলে ধরা হয়।ঘোষণাপত্রে বলা হয়, জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘অমুসলিম সংখ্যালঘু’ ঘোষণা করতে হবে। একই সঙ্গে মুসলমানদের স্বতন্ত্র ধর্মীয় পরিভাষা যেমন মসজিদ, আজান, সালাত, ইমাম, খলিফা, খুতবা ইত্যাদি ব্যবহারে তাদের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।[BANGVIEWS-POST:3756]এ ছাড়া কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের যাবতীয় বই-পুস্তক, লিটারেচার, ম্যাগাজিন, ডিজিটাল কনটেন্টসহ প্রচার ও প্রকাশনামূলক উপাদান বাজেয়াপ্ত ও নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটভিত্তিক তাদের সব অ্যাপ ও ওয়েবসাইট বন্ধ করারও দাবি রয়েছে।ঘোষণাপত্রে মহান আল্লাহ, সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং কোরআন-সুন্নাহ অবমাননার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।এ ছাড়া মুসলমানদের সঙ্গে কাদিয়ানিদের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নিষিদ্ধ করা এবং মুসলিম কবরস্থানে তাদের মৃতদের দাফন নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রমে ‘খতমে নবুওয়াত’-এর ঈমান ও আকিদার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টে কাদিয়ানিদের ধর্মীয় পরিচয় ‘কাদিয়ানি’ হিসেবে উল্লেখ করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি এবং তাকে ইজতেমায় অংশগ্রহণের অনুমতি না দেওয়ার দাবি রয়েছে।ঘোষণাপত্রে ‘জঙ্গি ও কুফরি সংগঠন হিযবুত তাহরীর’ নিষিদ্ধ করে তাদের সব ধরনের প্রচার ও প্রকাশনা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়।[BANGVIEWS-POST:3755]সম্মেলন থেকে দাবিগুলো বাস্তবায়নে কয়েকটি কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে কাদিয়ানিদের মতবাদের বিষয়ে প্রকাশিত বই-পুস্তক দেশের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে দেশের প্রতিটি জেলায় খতমে নবুওয়াত সমাবেশ আয়োজন এবং পর্যায়ক্রমে দেশের আট বিভাগে মহাসমাবেশ করার কর্মসূচি রয়েছে।এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান, রাজধানী ঢাকায় ‘আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়াত মহাসম্মেলন’ আয়োজন এবং দেশের প্রতিটি জামে মসজিদে জুমার খুতবায় ‘আকিদায়ে খতমে নবুওয়াত’ বিষয়ে বিশেষ আলোচনা ও সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে এসব দাবি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।