ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

আল্লাহর মেহমানদের ওপর হামলা সহ্য করা হবে না: ধর্মমন্ত্রী

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশিসহ হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। একই সঙ্গে তিনি এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক ও উমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।ধর্মমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা, নিরাপদ আবাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।হামলার পর ভুক্তভোগী উমরাহ কাফেলার জিম্মাদার মোহাম্মদ আলী কাশেমীর সঙ্গে কথা বলেন ধর্মমন্ত্রী। এ সময় তিনি আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং তাদের চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন।এ ছাড়া আগের রাতেও উমরাহযাত্রীদের নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।সৌদি আরবের ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন বলেন, ‘সৌদি আরব মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও আবেগের স্থান। এ দেশেই অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফ আল্লাহর ঘর এবং মদিনা মুনাওয়ারায় রয়েছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক। সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবের ওপর যে কোনো ধরনের হামলা মুসলিম বিশ্ব কখনোই মেনে নেবে না।’তিনি বলেন, এ ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোর সম্মিলিত প্রতিবাদ জানানো প্রয়োজন। বিশেষ করে পবিত্র ভূমিতে অবস্থানরত উমরাহযাত্রী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহর মেহমানদের ওপর হামলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। আমরা এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে বাংলাদেশ সরকার দৃঢ়ভাবে রয়েছে। আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।’তিনি আরও জানান, সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি উমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।বাংলাদেশি উমরাহযাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে পবিত্র মক্কা ও মদিনায় যাতায়াত করতে পারেন এবং উমরাহ পালন শেষে নিরাপদে দেশে ফিরতে পারেন, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় চলছে।ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’উমরাহযাত্রীদের চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও আবাসন নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় সৌদি সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি।একই সঙ্গে সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আল্লাহর মেহমানদের ওপর হামলা সহ্য করা হবে না: ধর্মমন্ত্রী