ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সাবেক সেনা কর্মকর্তা গুলশান আরা ও দেবাশীষ রিমান্ড শেষে কারাগারে

সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, সহিংসতায় উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্তরা হলেন সাবেক লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা (৪৩) ও সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল বিজয় দেবাশীষ নারায়ন পাল।চার দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে তাঁদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর এই নির্দেশ দেন।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, রিমান্ডে আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের মূল নেটওয়ার্ক ও আর্থিক উৎস শনাক্ত করতে তাঁদের পরবর্তীতে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারও রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হবে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাওসার আহমেদ জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন, অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকু ও মো. মশিউর রহমান জামিন চেয়ে শুনানি করেন।এর আগে গত রবিবার (১১ অক্টোবর) রাতে ডিবির একটি দল মিরপুরের পল্লবীতে অভিযান চালিয়ে নিজ বাসা থেকে লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরাকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে বনানী থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন আদালত তাঁদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পল্লবীতে কাজী গুলশান আরার বাসায় অবস্থান করে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টার্স আলফা ১’ এবং ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত থেকে গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ ও সহিংসতামূলক কনটেন্ট প্রচার করছিলেন। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের তথাকথিত ‘ইউনিটি কেয়ার অ্যান্ড পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদসহ পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রবিরোধী নানা ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গণভবনে গিয়ে আনুগত্য প্রকাশ করেন গুলশান আরা এবং পরবর্তীতে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর থেকে আসামিরা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগসাজশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানো এবং রাষ্ট্রীয় অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন। এসব ঘটনায় পল্লবী থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. আলী আকবার বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা (রাষ্ট্রদ্রোহ), সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটিতে আরও অজ্ঞাতনামা ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা গুলশান আরা ও দেবাশীষ রিমান্ড শেষে কারাগারে