রাজধানীর কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি বন্ধ হয়ে গেল, কারণ কী
নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে রাজধানীর কাকরাইলে যাত্রা শুরু করা অন্যতম অভিজাত বিপণিবিতান ‘কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স’ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। পোশাক, অলংকার, জুতা ও প্রসাধন সামগ্রীর জন্য একসময় মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তদের প্রধান পছন্দের কেন্দ্র হলেও সময়ের ব্যবধানে তীব্র ক্রেতা সংকটে পড়ে এটি। ধারাবাহিক লোকসানের মুখে দোকানমালিকদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে গত ১ অক্টোবর থেকে মার্কেটটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়, কমপ্লেক্সটির মূল ফটকে বড় লোহার শাটার নামানো। তার ওপরে ঝুলছে পিভিসি ব্যানার—‘০১/১০/২০২৬ ইং তারিখ হতে শপিং কমপ্লেক্স বন্ধ থাকিবে’। মূল বিপণিবিতান বন্ধ থাকলেও ভবনের বাইরের সামনের অংশে থাকা কাচ্চি ভাই, সুমি’স হট কেক ও রেমন্ডের মতো হাতে গোনা কয়েকটি বিক্রয়কেন্দ্র এবং একটি ব্যাংকের এটিএম বুথ এখনো চালু রয়েছে। তবে সেগুলোতেও ক্রেতাসমাগম একেবারেই কম।মার্কেট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে ২০ তলাবিশিষ্ট আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের বেজমেন্টসহ নিচের চার তলা নিয়ে কর্ণফুলী গার্ডেন সিটির যাত্রা শুরু হয়। ভবনের বাকি তলাগুলোতে রয়েছে আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট। তৎকালীন কর্ণফুলী গ্রুপের নির্মিত এই মার্কেটের ১৯৮টি দোকানের মালিকানা কিনে নেন ১২৫ জন ব্যবসায়ী। শুরুতে জমজমাট ব্যবসা হলেও বন্ধের ঠিক আগমুহূর্তে ১৯৮টির মধ্যে মাত্র ২৫টি দোকান কোনোমতে টিকে ছিল।বিপণিবিতানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ তুলে ধরেছেন কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি দোকান মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাকীবিল্লাহ ওসমানী। তিনি জানান, গত দশকে মগবাজার-মালিবাগ উড়ালসড়ক (ফ্লাইওভার) নির্মাণের সময় দীর্ঘমেয়াদি তীব্র যানজটের কারণে এই মার্কেটে সাধারণ ক্রেতাদের আসা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তখন অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী অন্যত্র দোকান সরিয়ে নেন, যারা কাজ শেষের পরও আর ফিরে আসেননি।পরবর্তীতে মহামারি করোনা পরিস্থিতির আঘাতে শতাধিক দোকান পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া মার্কেটের কিছু প্রসাধনী দোকানে নকল ও মানহীন পণ্য বিক্রির অভিযোগ ওঠায় সার্বিক সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়।দোকান মালিক সমিতির নেতারা জানান, দোকানমালিকেরা সর্বসম্মতিক্রমে কেবল মার্কেট বন্ধই করেননি, বরং পুরো বাণিজ্যিক স্পেসটির মালিকানা এককালীন বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা চলছে এবং দ্রুতই বিক্রয় প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে।উল্লেখ্য, ২০ তলাবিশিষ্ট এই ভবনটি নির্মাণ করেছিল কর্ণফুলী গ্রুপ, যার মালিকানায় রয়েছেন সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী।