করাচি হামলায় ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান
পাকিস্তানের করাচিতে আধাসামরিক বাহিনী পাকিস্তান রেঞ্জার্সের সদর দপ্তরে হামলার ঘটনায় ভারতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পাকিস্তানের আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বাস্তবতার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, করাচির ঘটনার জন্য ভারতের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি পাকিস্তানকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ না তুলে নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।[BANGVIEWS-POST:839]ভারত আরও দাবি করেছে, পাকিস্তানের উচিত নিজেদের ভূখণ্ডে সক্রিয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নীতিতে সন্ত্রাসবাদকে কোনোভাবেই ব্যবহার না করারও আহ্বান জানানো হয়।এর আগে করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে আত্মঘাতী হামলার পর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি কোনো প্রমাণ প্রকাশ না করেই হামলায় ভারতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছিলেন।এদিকে হামলার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় বিমান ও স্থল অভিযান চালিয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, পাক্তিয়া, পাক্তিকা ও কুনার প্রদেশে পরিচালিত অভিযানে অন্তত ২৫ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন জামাত-উল-আহরারের অবস্থান লক্ষ্য করে স্থল অভিযানও পরিচালনা করা হয়েছে।গত শনিবার করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের সদর দপ্তরে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। নিষিদ্ধ সংগঠন জামাত-উল-আহরার এ হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, তাদের নয়জন সদস্য অভিযানে অংশ নিয়েছিল।পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হামলা ও পরবর্তী বন্দুকযুদ্ধে রেঞ্জার্সের তিন সদস্য নিহত এবং চারজন আহত হন। পাল্টা অভিযানে তিন হামলাকারী নিহত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এছাড়া একজন আফগান নাগরিককে আহত অবস্থায় আটক করার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।[BANGVIEWS-POST:835]দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান প্রশাসন টিটিপি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে। তবে আফগান প্রশাসন এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে গত অক্টোবর থেকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত বন্ধ রয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রমও উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়েছে।সূত্র : এনডিটিভি