জাপানে ৬.৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
পূর্ব এশিয়ার দেশ জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হলেও প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬.৯। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল কুজি শহরের উত্তর-পূর্বে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূগর্ভের প্রায় ৫১.৭ কিলোমিটার গভীরে।[BANGVIEWS-POST:571]শক্তিশালী এই ভূকম্পনের পরও জাপান কর্তৃপক্ষ কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করেনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে বড় ধরনের সুনামির ঝুঁকি নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে।ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার প্রস্তুতি জোরদার করতে বলেছেন।জাপানের মুখ্য মন্ত্রিসভা সচিব মিনোরু কিহারা জানান, এখন পর্যন্ত প্রাণহানি বা গুরুতর ক্ষতির কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রকৃত পরিস্থিতি নিরূপণে বিভিন্ন সংস্থা মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।ভূমিকম্পের পর পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত অঞ্চলের কোনো পারমাণবিক কেন্দ্রে অস্বাভাবিকতা বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির খবর পাওয়া যায়নি।[BANGVIEWS-POST:569]নিরাপত্তার স্বার্থে দেশটির পরিবহন খাতও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানি সাময়িকভাবে শিন-আওমোরি থেকে টোকিও পর্যন্ত চলাচলকারী কয়েকটি বুলেট ট্রেনের সেবা স্থগিত করেছে। রেলপথ ও অবকাঠামোর পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা হবে বলে জানানো হয়েছে।ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে জাপানে এমন ঘটনা নতুন নয়। তবে শক্তিশালী এই কম্পনের পরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো দেশটির দুর্যোগ প্রস্তুতি ও অবকাঠামোগত সক্ষমতার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।