ঢাকা    শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভুল করেছে: সিনেটর এল-সায়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর ও প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল এল-সায়েদ দেশটির চলমান মধ্যপ্রাচ্য নীতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যুদ্ধকে সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রয়োজনীয় আখ্যা দিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের কখনোই জড়ানো উচিত হয়নি।যুক্তরাষ্ট্রের একটি শীর্ষস্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশটির সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্য নীতির ত্রুটি তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলের মাত্রাতিরিক্ত একপেশে প্রভাব এবং তেল আবিবকে দেওয়া নির্বিচার সামরিক সহায়তার যৌক্তিকতা নিয়েও জোরালো প্রশ্ন তোলেন।চলমান ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে সিনেটর এল-সায়েদ বলেন, ওয়াশিংটন এমন একটি বৈশ্বিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য একটি বিপজ্জনক ফাঁদে পরিণত হয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে সব মার্কিন প্রেসিডেন্টই নানা উত্তেজনা সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাত সুকৌশলে এড়িয়ে চলেছেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন পূর্বসূরিদের সেই সংযমী ও সতর্ক অবস্থান থেকে সরে এসে একটি চরম ঐতিহাসিক ভুল করেছে।তিনি গুরুতর অভিযোগ এনে বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে দীর্ঘ বৈঠকের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসনকে উসকানি দিয়ে সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামাতে বাধ্য করেছেন। কয়েক দশক ধরেই ইসরায়েলি নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সামরিক যুদ্ধে জড়ানোর নীল নকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে আসছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলকে জবাবদিহিহীন বিশেষ সুবিধা দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করে এল-সায়েদ বলেন, পৃথিবীর অন্য যেকোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের মতোই ইসরায়েলি সরকারকেও আন্তর্জাতিক আইন ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, কোনো নির্দিষ্ট দেশের সরকারের নীতি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার অর্থ দেশটির সাধারণ জনগণ বা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা নয়। রাজনৈতিক সমালোচনা ও মানবিক মূল্যবোধের সাথে জাতিগত শত্রুতার কোনো সম্পর্ক নেই।একই সঙ্গে ইসরায়েলকে দেওয়া সব ধরনের মার্কিন সামরিক সহায়তা ও বিধ্বংসী অস্ত্র বিক্রি অবিলম্বে পুনর্বিবেচনার দাবি জানান এই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। তাঁর মতে, মার্কিন করদাতাদের টাকায় কেনা অস্ত্র ব্যবহার করে গাজা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে কি না, তা নিশ্চিত করার একটি নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।এ ছাড়া মিশরের অভ্যন্তরীণ চরম মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন আবদুল এল-সায়েদ। দেশটিতে রাজনৈতিক নিপীড়ন ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কায়রোকে দেওয়া বার্ষিক মার্কিন আর্থিক ও সামরিক সহায়তা অবিলম্বে স্থগিত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভুল করেছে: সিনেটর এল-সায়েদ