ঢাকা    শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সরকারের ভুলের দায় প্রধানমন্ত্রীর ওপরই আসবে: অলি আহমেদ

সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। তাঁর অভিযোগ, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় প্রভাব বিস্তার, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থায় অনিয়মের কারণে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। এসব বিষয়ে এখনই পদক্ষেপ না নিলে শেষ পর্যন্ত সব দায় প্রধানমন্ত্রীর ওপরই বর্তাবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন অলি আহমেদ।প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে বুঝতে হবে, দিন শেষে সবকিছুর দায় তার ওপরই আসবে। যারা এখন তার সঙ্গে আছেন, বিপদের সময় তারা পালিয়ে যাবেন। তখন কেউ বলবেন না যে আমরা এর জন্য দায়ী। অনুরোধ করব, সময় থাকতে হাঁটেন, না হলে বিপদে পড়বেন।”সরকারের প্রতি নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন সভা-সমাবেশের মাধ্যমে তাঁরা সরকারকে নানা বিষয়ে সতর্ক করছেন। তবে এসব উদ্যোগে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য, দেশের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়ম এবং কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি।ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এসব দেশে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যক্তি পরিবর্তনের চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার গুরুত্ব বেশি। কিন্তু বাংলাদেশে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।অলি আহমেদের দাবি, বর্তমান সরকারের সময়ে জেলা অফিস, জেলা পরিষদ, বিভিন্ন করপোরেশন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা বিএনপির কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করে সরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও স্থানীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, বিরোধী দলের দায়িত্ব হচ্ছে সরকারকে সঠিক পথে পরিচালিত হতে সহায়তা করা। তাঁরা সেই দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে পরামর্শ উপেক্ষা করা হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।এ প্রসঙ্গে ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তৎকালীন বিএনপি সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি না শোনায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। বর্তমান সরকারকেও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আগে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের যুক্ত করার পরামর্শ দিয়ে অলি আহমেদ বলেন, “দয়া করে ভালো মানুষদের পরামর্শ নেন। মূর্খদের সঙ্গে বসে কোনো লাভ নেই। অনভিজ্ঞ লোকদের সঙ্গে বসে কোনো লাভ নেই। যারা জানে, তাদের সঙ্গে বসে কাজ করেন। ঠিক পথে চলেন।”দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রত্যাশা বলে জানান তিনি।সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

সরকারের ভুলের দায় প্রধানমন্ত্রীর ওপরই আসবে: অলি আহমেদ