ঢাকা    শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

তিন মাসেই বিদ্যুৎ-এলএনজি ভর্তুকির ১৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে ভর্তুকির জন্য ৪২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। তবে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই এ বরাদ্দের প্রায় ৪৫ শতাংশ, অর্থাৎ ১৯ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা বিদ্যুৎ ও এলএনজি খাতে সরকারের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় ভর্তুকির প্রয়োজনও বাড়ছে।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয় ২১ সেপ্টেম্বর আগস্ট মাসের বিদ্যুৎ ভর্তুকি বাবদ ৪ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা এবং সেপ্টেম্বরের এলএনজি আমদানি ভর্তুকি হিসেবে ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড় করেছে। দুই খাতে সর্বশেষ ছাড় করা ৭ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা মাসিক গড়ে বরাদ্দের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।এর আগে জুলাই মাসের বিদ্যুৎ ভর্তুকি এবং জুলাই ও আগস্ট মাসের এলএনজি ভর্তুকি বাবদ ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ ছাড় করা হয়েছিল।অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, জাতীয় বাজেটে বিদ্যুৎ ভর্তুকির জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সে হিসাবে মাসে গড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের কথা। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ প্রতি মাসে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা করে চেয়ে আসছে।এদিকে এলএনজি খাতেও ভর্তুকির চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশায় চলতি অর্থবছরে এলএনজি ভর্তুকির জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। তবে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় এ খাতে মোট ভর্তুকি ৪০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রথম তিন মাসেই এ খাতে ছাড়ের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতেও ভর্তুকির পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। গত অর্থবছরে এ খাতে সরকার প্রায় ৪৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছিল।হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশকে স্পট মার্কেট থেকে বেশি পরিমাণে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। এর ফলে আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে কাতার দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ পরিস্থিতির কথা জানানোয় চুক্তিভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থায়ও প্রভাব পড়েছে। ফলে বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশকে স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হয়েছে।চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটের (এমএমবিটিইউ) দাম প্রায় ৩০ ডলারে উঠেছিল। সংঘাত শুরুর আগে একই পরিমাণ এলএনজির দাম ছিল প্রায় ১১ থেকে ১২ ডলার। ফলে আমদানি ব্যয় প্রায় তিন গুণ হয়েছে।তবে পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানি আমদানিতে আপাতত সরাসরি ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অর্থ মন্ত্রণালয় ভর্তুকির পরিবর্তে আগের ঋণের সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গতিশীল মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার পরামর্শ দিয়েছে। এরই মধ্যে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে সব ধরনের জ্বালানির দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তিন মাসেই বিদ্যুৎ-এলএনজি ভর্তুকির ১৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়