ঢাকা    শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

জামালপুর হাসপাতালের অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ বিমানমন্ত্রীর

জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও অবকাঠামোগত পরিস্থিতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাসপাতালটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে বর্তমানে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ রোগী ভর্তি রয়েছেন। এমন পরিস্থিতি তিনি আগে কোনো হাসপাতালে দেখেননি বলে মন্তব্য করেন।মন্ত্রী জানান, পরিদর্শনের সময় হাসপাতালে ৮৬৭ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগী উভয় পক্ষকেই নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।শিশু ওয়ার্ডসহ হাসপাতালের কয়েকটি অংশের অবস্থাও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত ভবনের কিছু অংশেও এখনও রোগী রাখা হচ্ছে।[BANGVIEWS-POST:5176]জামালপুর মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্প দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়িত না হওয়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিল্লাত। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে প্রকল্পের কাজ এগোয়নি এবং ঠিকাদার নির্বাচন ও সংশ্লিষ্টদের স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে নির্মাণকাজ আটকে ছিল।তবে এ অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো নথি বা তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেননি।বিমানমন্ত্রী বলেন, জামালপুরে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা হলেও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় চিকিৎসাসেবায় প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি। দ্রুত এ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়েও কথা বলেন এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়ে একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও সেগুলোর দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ ও পরিচালনার যথাযথ পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তও বর্তমান সংকটকে আরও জটিল করেছে বলে দাবি করেন তিনি।[BANGVIEWS-POST:5175]মন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা দ্রুত সমাধানে প্রধানমন্ত্রী একটি বিশেষ সেল গঠন করেছেন। এলএনজি আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন টার্মিনাল নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, এলএনজি আমদানি করা সম্ভব হলেও পর্যাপ্ত টার্মিনাল না থাকলে তা ব্যবহার করা কঠিন। তাই অবকাঠামো সম্প্রসারণের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।বর্তমান সরকারকে একটি দুর্বল অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত সংকট মোকাবিলা করে কাজ করতে হচ্ছে উল্লেখ করে বিমানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর উল্লেখযোগ্য সমাধান করা সম্ভব হবে।হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক, জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জামালপুর হাসপাতালের অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ বিমানমন্ত্রীর