ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ফ্রান্সে বি'ক্ষোভ থেকে দাঙ্গা, জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার হুঁ'শিয়ারি ম্যাক্রোঁর

ফ্রান্সে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দেশজুড়ে ভয়াবহ সহিংসতা ও রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন শহরে সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ, দোকানপাটে ব্যাপক লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সপ্তাহান্তের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্য ও এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ছয় শতাধিক পুলিশ সদস্য। এই পরিস্থিতিতে সহিংসতাকারীদের কঠোর বিচারের মুখোমুখি করার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।রোববার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, "যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে, তাদের অবশ্যই এর পুরো মূল্য পরিশোধ করতে হবে। যারা লুটপাট চালিয়েছে, তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আর যারা প্রজাতন্ত্রের ভিত নাড়িয়ে দিয়ে একে উৎখাতের অপচেষ্টা করেছে, তাদের আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।" সহিংসতার জন্য তিনি ‘চরম বামপন্থি গোষ্ঠীর বিদ্রোহী উপাদান’ এবং তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়া উশৃঙ্খল অপরাধীদের সরাসরি দায়ী করেন। তবে একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, অনেকেই বৈধ ও যৌক্তিক দাবি নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন; তাদের সঙ্গে এই সুযোগসন্ধানী অপরাধীদের এক করে দেখা ঠিক হবে না। সংকট সমাধানে তিনি চলতি সপ্তাহেই শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাস্তবমুখী আলোচনায় বসতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন।ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, সংঘাত চলাকালে নঁত শহরে একটি গাড়ির ধাক্কায় ২২ বছর বয়সি এক পুলিশ সদস্য নিহত হন। এ ছাড়া প্যারিসের উত্তরাঞ্চলে হৃদ্‌যন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সহিংসতায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছে। মধ্যাঞ্চলীয় লিমোজ শহরে বিক্ষোভকারীরা ১৪৩ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক টাউন হলে আগুন ধরিয়ে দিলে ভবনটির চূড়া ধসে পড়ে। মার্সেই শহরের সিটি হলে ঢুকে ভাঙচুর চালানো হয় এবং লিয়োঁতে একটি পর্যটন কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বহুজাতিক সুপারশপ ক্যারেফোরের প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকান লুটপাট ও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে।মূলত সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাজেট সংকোচন, শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী চাপ এবং জীবনযাত্রার তীব্র ব্যয়ের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনের সূচনা করে, যা পরবর্তীতে বৃহত্তর সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। শনিবার এক দিনেই দেশজুড়ে সাড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ রাজপথে নেমে আসেন।এদিকে বিক্ষোভ দমনে ফরাসি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র বিতর্ক ও আন্তর্জাতিক সমালোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশি অভিযানে কিশোরের চোয়াল ভেঙে যাওয়া এবং স্টান গ্রেনেড বিস্ফোরণে দুই বিক্ষোভকারীর হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দল ‘লা ফ্রঁস ইনসুমিজ’-এর নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ দাবি করেছেন, গণমাধ্যমে সহিংসতার ছবি বড় করে দেখানো হলেও আন্দোলনের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের অধিকার দাবি করছিলেন।ফ্রান্সের এই বিক্ষোভের ঢেউ ইতোমধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও। ফ্রান্সের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বেলজিয়াম ও ইতালির মিলানে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে, যা অনেক স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়। মিলানেও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি।সূত্র: রয়টার্স 

ফ্রান্সে বি'ক্ষোভ থেকে দাঙ্গা, জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার হুঁ'শিয়ারি ম্যাক্রোঁর