ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

"সাংবাদিকদের কুত্তার মতো পেটানো দরকার" মন্তব্য করে সমালোচনায় আব্বাসী

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের ইতিবাচক দিক প্রচার না করে অভিযানের কৌশল ও পদ্ধতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের সমালোচনা করতে গিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে চরম আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বিতর্কিত ইসলামী বক্তা ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। সাংবাদিকদের ‘কুত্তার মতো পেটানো দরকার’—বলে তাঁর এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশের মূলধারার গণমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। পেশাদার সাংবাদিক সমাজ ও বিভিন্ন সচেতন মহল তাঁর এমন অশালীন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদরাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের নিয়ে এ অবমাননাকর মন্তব্য করেন।মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে সাংবাদিকদের সরাসরি ‘হলুদ সাংবাদিক’ আখ্যায়িত করে তাঁদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে মাঠে নামার উসকানি দেন এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। তিনি দাবি করেন, দেশে মাদকের বিরুদ্ধে চলা অভিযানের ইতিবাচক ও কল্যাণকর দিকগুলো তুলে না ধরে সাংবাদিকরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পিস্তল হাতে অভিযানের দৃশ্য সামনে এনেছেন। সংবাদমাধ্যম ইতিবাচক সংবাদ প্রচার করলে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারত বলেও তিনি যুক্তি দেখান।এ সময় ঢাকার রাজনীতিতে আলোচিত বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অবস্থানের উদাহরণ টেনে আব্বাসী বলেন, ইশরাক হোসেন মাদকের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, তা নীতিগতভাবে সঠিক। যদিও পিস্তল উঁচিয়ে অভিযান চালানোর পদ্ধতিটি সমালোচনার দাবি রাখে, তবুও তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রশংসনীয়।বক্তব্যের অন্য পর্যায়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আব্বাসী উল্লেখ করেন, দেশে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের অনুসারীরাও রয়েছেন। অতীতে যাঁরা সরাসরি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁদের নিরপেক্ষ বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। তবে নিরীহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাধারণ ক্ষমা করে দেওয়া দেশের দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় কল্যাণের জন্য ইতিবাচক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া রাজনৈতিক বিরোধ ভুলে ইসলামের স্বার্থ রক্ষা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।এদিকে সাংবাদিকদের নিয়ে আব্বাসীর এমন অসংযত ও সহিংস বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিকরা সবসময় সমাজের দর্পণ ও অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে সত্য এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরেন। কোনো সংবাদ বা তার উপস্থাপন নিয়ে কারও দ্বিমত বা আপত্তি থাকলে তিনি নিয়মতান্ত্রিক ও পেশাদারভাবে তার প্রতিবাদ বা ব্যাখ্যা জানাতে পারেন। কিন্তু জনসমক্ষে সাংবাদিকদের ‘কুত্তার মতো পেটানো দরকার’ বলে যে হিংসাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে, তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ ও সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদার ওপর চরম কুঠারাঘাত। তিনি অবিলম্বে এ বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে ধর্মীয় বক্তাদের দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে শালীনতা ও নীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।