ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সার্বিক নিরাপত্তা ঘাটতির দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি হাসনাতের

গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের দায়ে কেবল পদত্যাগ করিয়ে দায়মুক্তি দেওয়া যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘শর্ট টাইম প্যারাসিটামল থেরাপি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, অপরাধ ফৌজদারি প্রকৃতির হলে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের একটি শারদীয় দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে হাসপাতাল ভাঙচুরের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে কেবল পদত্যাগ করিয়ে দায় সারা হয়েছে। পদত্যাগ কোনো চূড়ান্ত শাস্তি হতে পারে না। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, পরিস্থিতি কতটা নাজুক ও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছালে একজন প্রতিমন্ত্রীকে নিজেই অস্ত্র হাতে মাঠে নামতে হয়?এনসিপির এই প্রভাবশালী নেতা উল্লেখ করেন, দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যে কার্যকর ভূমিকা পালনের কথা ছিল, সেখানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে অস্ত্র উঁচিয়ে রাস্তায় নামতে হচ্ছে—যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সার্বিক ব্যর্থতা ও সমন্বয়হীনতাই স্পষ্ট হয়। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যথাযথভাবে নিজ দায়িত্ব পালন করলে ইশরাক হোসেনকে অস্ত্র হাতে রাস্তায় নামার ঝুঁকি নিতে হতো না। বরং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজেদের চরম ব্যর্থতার দায় উল্টো ইশরাক হোসেনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, দুর্নীতি, ঘুষ ও জমি দখলের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন। কেন একজন প্রতিমন্ত্রীকে এভাবে রাস্তায় নামতে বাধ্য হতে হলো, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আমার হাতে অস্ত্র নেই, আপনার হাতে অস্ত্র নেই, সাধারণ মানুষের হাতেও কোনো অস্ত্র নেই। তাহলে তাঁরা নিরাপত্তা নিশ্চিতে কী নিয়ে রাস্তায় নামবেন?”স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই সামগ্রিক অব্যবস্থাপনার দায় স্বীকার করে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন হাসনাত। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রতিমন্ত্রীর ছবির পেছনে ‘পাভেল’ নামের এক ব্যক্তিকে অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসন কী আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে, তা স্পষ্ট করার পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ বিচারের দাবি জানান তিনি। বক্তব্য শেষে তিনি দেবিদ্বার উপজেলার অন্যান্য পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

সার্বিক নিরাপত্তা ঘাটতির দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি হাসনাতের