১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে ছিল না এনসিপি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগ অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাকে দেখা যায়নি। তবে উদ্বোধনী পর্ব শেষে লংমার্চের চলমান গাড়িবহরে দলটির চারজন প্রতিনিধি যুক্ত হয়েছেন।শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৮টায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির সূচনা হয়। সমাবেশ শেষে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে খুলনার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে লংমার্চের বিশাল গাড়িবহর।এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম ও রংপুরের আগের দুটি লংমার্চে দলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সরাসরি অংশ নিলেও এবার তাঁদের অংশগ্রহণ ছিল ‘প্রতীকী’। উদ্বোধনী সমাবেশে শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত না থাকলেও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিনিধি হিসেবে চারজন নেতাকে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা হলেন—দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, আবদুল হান্নান মাসউদ এবং যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মুস্তাফিজ। লংমার্চ বহর ঢাকা ছাড়ার পর শরীয়তপুরের নাওডোবায় পথসভায় বক্তব্য রাখেন আরিফুল ইসলাম আদীব।এ বিষয়ে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, দল হিসেবে এনসিপি কর্মসূচিতে রয়েছে এবং প্রতিনিধি দল মাঠে কাজ করছে। তবে উদ্বোধনী মঞ্চে শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোটের ভেতরে থেকেও নিজেদের ‘স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয়’ ধরে রাখার কৌশল হিসেবেই এনসিপি দূরত্ব বজায় রেখে প্রতিনিধিত্ব করছে।এদিকে লংমার্চের যাত্রাপথ গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে নির্ধারিত থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে গাড়িবহরের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় আওয়ামী লীগের হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে এবার কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির ঝুঁকি এড়াতে গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা রাখেনি জোট। তবে ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ ও এনসিপি নেতারা হামলার আশঙ্কাকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।এর আগে সকালে উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে।” সেই আসন্ন পরিবর্তনের জন্য তিনি দেশবাসীকে সর্বাত্মক প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।গণভোটের রায় কার্যকর, জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে সাংবিধানিক সংস্কার, চব্বিশের গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানির সংকট সমাধান এবং নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আয়োজিত প্রায় ৪২৫ কিলোমিটারের এই লংমার্চটি ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হবে।