কক্সবাজারে দিনদুপুরে যানবাহন থামিয়ে ডাকাতি
কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কের হিমছড়ি ঢালায় দিনের আলোতেই প্রকাশ্যে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ও দুপুরে দুই দফায় মুখোশধারী সশস্ত্র ব্যক্তিরা কয়েকটি যানবাহন থামিয়ে যাত্রীদের পাশের গভীর জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে মারধর করে টাকা ও মোবাইল লুট করে। এতে দুটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) দুই কর্মকর্তার কাছ থেকেই প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আলোচিত ডাকাত ছাবেরের স্ত্রী ও ছেলেকে আটক করার পাশাপাশি তাদের বাড়ি থেকে ডাকাতির বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।ভুক্তভোগীদের মধ্যে একটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার ব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি মোটরসাইকেলযোগে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড়ে যাচ্ছিলেন। পথে হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা তাঁদের গতিরোধ করে পাশের পাহাড়ি জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে এবং নগদ অর্থ, দুটি মোবাইল ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিনিয়ে নেয়। একই সড়কের একই এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে অস্ত্রের মুখে আরেকটি বেসরকারি সংস্থার হিসাবরক্ষক আবদুল হাকিমকে জিম্মি করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ব্যাংকের চেকবই লুট করা হয়। এ ছাড়া সকালে মোহাম্মদ তারেক নামের এক যাত্রী ডাকাতদের কবলে পড়ার পর চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে রক্ষা পান।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গভীর পাহাড়ি বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া এই সড়কের নির্জন অংশে দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটছে, কিন্তু যাত্রীদের সুরক্ষায় কার্যকর ও স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ডাকাতির শিকার যানবাহনের সংখ্যা নিয়ে ৫০ থেকে ৬০টি গাড়ি আটকের গুঞ্জন ছড়ালেও ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার বিষয়টি নাকচ করে দেন। তিনি জানান, ডাকাতরা কয়েকটি মোটরসাইকেল ও একটি অটোরিকশায় হানা দেওয়ার খবর পেয়ে পেছনের অন্যান্য গাড়িগুলো ভয়ে সড়কে থেমে ছিল, যা পরবর্তীতে বিভ্রান্তির জন্ম দেয়। পুলিশ এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আলোচিত ডাকাত ছাবেরের বাড়ি থেকে বিপুল মালামালসহ তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে আটক করেছে এবং মূল হোতাদের গ্রেফতারে পাহাড়ি অঞ্চলে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।