হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইল ইয়েমেন
কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে উপকূলজুড়ে তীব্র অভিযান শুরু করেছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী। সৌদি আরবের জোরালো বিমান হামলার সহায়তায় সরকারি সেনারা উপকূল ধরে দ্রুত অগ্রসর হয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোখা শহরের উপকণ্ঠে পৌঁছে গেছে। ইয়েমেন সরকারের দাবি অনুযায়ী, গত মাসে দখল করা বেশিরভাগ এলাকা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। পরবর্তীতে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মোখা শহরটি তাদের নিয়ন্ত্রণে আসার কথা জানিয়েছে।এই সামরিক অভিযানের পালটা জবাবে সৌদি আরবের ভেতরে একাধিক সংবেদনশীল স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে হুথিরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, খামিস মুশাইত সামরিক ঘাঁটি এবং রাবিগে আরামকোর একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে সৌদি আরব বা আরামকোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং আন্তর্জাতিকভাবেও তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব ও মোখা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ সরকারি বাহিনীর হাতে এলে গুরুত্বপূর্ণ এ আন্তর্জাতিক তেল পরিবহণ রুটে হুথিদের আধিপত্য অনেকটাই হ্রাস পাবে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অন্য পাহাড়ি এলাকা থেকে দূরপাল্লার ড্রোনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত হানার সক্ষমতা হুথিদের এখনো রয়েছে।এদিকে উপকূলীয় ফ্রন্টে পিছিয়ে পড়লেও ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজের কাছে পাহাড়ি এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি বাহিনীকে অবরুদ্ধ করার দাবি করেছে হুথিরা। অপরদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও হোদেইদা উপকূলে নৌ অভিযান জোরদার করেছে। চলমান এই সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্প্রতি রিয়াদে জরুরি বৈঠক করে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় দেশটিতে দ্রুত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের বিষয়ে একমত হয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান।সূত্র: রয়টার্স