ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইরান-রাশিয়াকে নিয়ে ইংলিশ গোয়েন্দা সংস্থার গুরুতর অভিযোগ

ব্রিটেনে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার ঘটনা বাড়ছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ইরান ও রাশিয়ার সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৫-এর প্রধান স্যার কেন ম্যাককালাম।মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর লন্ডনে এমআই৫-এর সদর দপ্তরে বার্ষিক নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনায় তিনি বলেন, ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে।আগে যেখানে সরকারি স্থাপনা বা কৌশলগত অবকাঠামো ছিল হামলার প্রধান লক্ষ্য, এখন সেখানে সাধারণ মানুষ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়কেও টার্গেট করা হচ্ছে।ম্যাককালামের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান তাদের বিরোধীদের ভয় দেখাতে অপরাধী চক্রকে ব্যবহার করছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিষ্ঠান এবং ইসরাইলি স্থাপনাগুলোও এমন কর্মকাণ্ডের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে তিনি জানান।আর এখানেই তৈরি হচ্ছে নতুন উদ্বেগ।কারণ, শুধু সরাসরি হামলা নয়, অপরাধী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভয়ভীতি, নাশকতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা ব্রিটেনের নিরাপত্তা সংস্থার নজরে এসেছে।এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত এক বছরেই যুক্তরাজ্যে ৫০টির বেশি গ্রেফতার হয়েছে বলে জানিয়েছেন এমআই৫ প্রধান।চলতি বছর ব্রিটেন ও ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি সামরিক স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুও হামলার শিকার হয়েছে।ম্যাককালামের মতে, এসব আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের বড় একটি অংশের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে ব্রিটেনের ইহুদি সম্প্রদায়।তবে এর পেছনে ইরান ও রাশিয়ার সরাসরি ভূমিকা রয়েছে, এমন কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ এই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। গোয়েন্দা প্রধানের বক্তব্যে মূলত সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।এদিকে ইরান ও রাশিয়ার তথাকথিত হাইব্রিড অভিযান আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা চলছে বলেও বিশ্লেষকদের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ হুমকিটি এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্র বা সামরিক হামলায় সীমাবদ্ধ নেই। অপরাধী চক্র, নাশকতা এবং ভয়ভীতি তৈরির মাধ্যমে একটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও চাপে ফেলার চেষ্টা হতে পারে।ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থার কাছে এ কারণেই বদলে যাওয়া হুমকির চিত্রটি এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

ইরান-রাশিয়াকে নিয়ে ইংলিশ গোয়েন্দা সংস্থার গুরুতর অভিযোগ