শ্রীলঙ্কার ইস্টার হামলা মামলায় দুই শীর্ষ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড
২০১৯ সালের ইস্টার সানডে আত্মঘাতী বোমা হামলা প্রতিরোধে দায়িত্ব পালনে গুরুতর অবহেলার দায়ে শ্রীলঙ্কার সাবেক পুলিশপ্রধান পুজিথ জয়াসুন্দরা এবং সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব হেমাসিরি ফার্নান্দোকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।শুক্রবার কলম্বোর তিন বিচারকের বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এ রায় দেন। দুই বিচারক তাদের দোষী সাব্যস্ত করার পক্ষে মত দেন। অপর বিচারক ভিন্নমত প্রকাশ করেন।আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সম্ভাব্য আত্মঘাতী হামলার বিষয়ে আগাম গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পরও দুই কর্মকর্তা যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেননি। তাদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে হামলাকারীরা গির্জা ও হোটেলে পরিকল্পিতভাবে আঘাত হানার সুযোগ পেয়েছিল।[BANGVIEWS-POST:2902]২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কার তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে প্রায় একই সময়ে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ২৭৯ জন নিহত এবং প্রায় ৫০০ মানুষ আহত হন। নিহতদের মধ্যে বহু বিদেশি নাগরিকও ছিলেন।তদন্তে স্থানীয় দুটি উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, যারা ইসলামিক স্টেটের আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হামলার আগে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে সম্ভাব্য হামলাকারী ও লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে একাধিক সতর্কবার্তা পেয়েছিল শ্রীলঙ্কা।তবে সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও গির্জা, পর্যটন হোটেল ও অন্যান্য সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতাও হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসে।হামলার কয়েক মাস পর জয়াসুন্দরা ও ফার্নান্দোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তারা জামিনে মুক্তি পান। ২০২২ সালে একটি আদালত তাদের খালাস দিলেও রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পর মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।নতুন বিচারে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, দায়িত্বে অবহেলা এবং আগাম গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ব্যবস্থা না নেওয়াসহ একাধিক অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:2898]দণ্ডিত দুই কর্মকর্তা এ রায়ের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারবেন। আপিল বা জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে থাকতে হবে।শ্রীলঙ্কায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও ১৯৭৬ সালের পর কোনো দণ্ড কার্যকর করা হয়নি। দেশটিতে সাধারণত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সাজা কার্যত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিণত হয়। বর্তমান প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার নীতি বজায় রাখার পক্ষে।এর আগে একটি মৌলিক অধিকার মামলায় শ্রীলঙ্কার সুপ্রিম কোর্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি মাইথ্রিপালা সিরিসেনাসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।সূত্র : রয়টার্স