ট্রুম্যান থেকে ট্রাম্প, ইসরাইলপন্থি লবির চাপে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা
১৯৪৮ সালে হ্যারি এস. ট্রুম্যান থেকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পর্যন্ত অধিকাংশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোনো না কোনো পর্যায়ে ইসরাইলপন্থি লবির রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছেন দুই বিশ্লেষক।রোববার (২ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ দাবি করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ইয়ান লাস্টিক ও গবেষক এলি ক্লিফটন। নিবন্ধটি তাদের নতুন বই Israel’s Lobby: America in the Grip of a Foreign Power থেকে রূপান্তরিত।লেখকদের মতে, ইসরাইল প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত জাতীয় স্বার্থের তুলনায় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ অনেক সময় দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে বেশি প্রভাব ফেলেছে।[BANGVIEWS-POST:3048]তারা লিখেছেন, ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনে যুদ্ধ চলাকালে ট্রুম্যানের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তাবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তারা ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ সি. মার্শাল সতর্ক করেছিলেন, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য এমন সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করবে। বৈঠকে ট্রুম্যান তার সঙ্গে একমত হলেও দুই দিনের মধ্যে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়ার নির্দেশ দেন।১৯৭০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার মধ্যপ্রাচ্যনীতি পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেন। কিসিঞ্জারের গঠিত ‘ওয়াইজ মেন’ কমিটি শান্তিচুক্তির স্বার্থে ইসরাইলকে পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে সরে যেতে চাপ দেওয়ার সুপারিশ করেছিল।নিবন্ধে বলা হয়, ওই সুপারিশের বিরোধিতা করে আমেরিকান-ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটিসহ ইসরাইলপন্থি সংগঠনগুলো প্রচারণা শুরু করে। ৭৬ জন সিনেটরের স্বাক্ষরিত চিঠির পর ফোর্ড ওই সুপারিশ থেকে সরে আসেন এবং ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বাড়ান।লেখকদের দাবি, জিমি কার্টার ‘ফিলিস্তিনি স্বদেশ’ প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিলেও রাজনৈতিক চাপের মুখে তার উদ্যোগ সীমিত হয়ে পড়ে। পরে মিসর ও ইসরাইলের মধ্যে শান্তিচুক্তি হলেও ফিলিস্তিন প্রশ্নটি মূল আলোচনার বাইরে চলে যায়।প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ দখলকৃত এলাকায় ইসরাইলি বসতি নির্মাণের বিরুদ্ধে আর্থিক চাপ দিতে গিয়ে প্রবল লবিংয়ের মুখে পড়েছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ক্যাপিটল হিলে তার বিপক্ষে প্রায় এক হাজার লবিস্ট কাজ করছেন।[BANGVIEWS-POST:3047]নিবন্ধে আরও দাবি করা হয়, বারাক ওবামা ইসরাইলি বসতি নির্মাণ বন্ধে চাপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও অবস্থান ধরে রাখতে পারেননি। জো বাইডেনও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধে শীর্ষ উপদেষ্টাদের সুপারিশ কার্যকর করেননি।লেখকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইল সম্পর্কে জনমত বদলেছে। ২০২০ সালে বাইডেনকে ভোট দিলেও ২০২৪ সালে কমলা হ্যারিসকে ভোট না দেওয়া ভোটারদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ গাজায় ইসরাইলের সহিংসতা বন্ধের বিষয়টিকে তাদের সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ বলেছেন।তারা আরও দাবি করেন, বর্তমানে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। এরপরও ইসরাইলপন্থি লবির রাজনৈতিক প্রভাব কমেনি এবং তারা ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান