ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব বাতিলের পাঁয়তারা করছে ট্রাম্প প্রশাসন
মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব বাতিল এবং তাঁকে সোমালিয়ায় ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে তদন্ত শুরু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন কর্মকর্তা ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রতিবেদনটি প্রচার করে আল জাজিরা।প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়ার পর মিনেসোটার এই আইনপ্রণেতা কীভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছিলেন, তা-ই বর্তমানে এই কেন্দ্রীয় তদন্তের প্রধান বিষয়বস্তু। অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ইলহানের পরিবারের পুরনো নথি পুনর্নিরীক্ষণ করছে এবং মিনেসোটার একটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে সাক্ষ্য দিতে তাঁর কয়েকজন আত্মীয়সহ বেশ কয়েকজনকে আনুষ্ঠানিক সমন পাঠিয়েছে।তদন্তকারীদের দাবি, ১৯৯৫ সালে কেনিয়ার শরণার্থী শিবির থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ২০০০ সালে ইলহান ওমর যখন নাগরিকত্ব পান, তখন তাঁর বা তাঁর প্রয়াত পিতার পক্ষ থেকে অভিবাসন নথিতে বয়স পরিবর্তন করা হয়েছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ তোলা হয়েছে, বাবার আবেদনের সময় ইলহানের বয়স ১৮ হওয়ার কথা থাকলেও নথিতে ১৭ বছর দেখানো হয়েছিল, যাতে তিনি আলাদা আবেদন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাবার মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভ করতে পারেন। তবে ইলহানের বাবা ২০২০ সালে মারা যাওয়ায় তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি আইনগতভাবে অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে। এর আগে জো বাইডেনের শাসনামলেও একই ধরনের তদন্ত চালানো হয়েছিল, তবে কোনো ধরনের জালিয়াতির প্রমাণ না পেয়ে বিষয়টি স্থগিত করা হয়।এই তদন্ত প্রতিবেদনের মাত্র কয়েক দিন আগেই মিনেসোটায় ইলহান ওমরের ব্যক্তিগত বাসভবনে আদালত অনুমোদিত তল্লাশি চালায় দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) বিশেষ দল। তল্লাশিকালে ফেডারেল এজেন্টরা তাঁর পাসপোর্ট, ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, কম্পিউটার এবং বেশ কিছু কাগজপত্র আলামত হিসেবে জব্দ করে নিয়ে যায়।আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই নজিরবিহীন অভিযান রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পঞ্চম মেয়াদে মিনেসোটার ডিস্ট্রিক্ট-৫ থেকে লড়তে যাওয়া ইলহান ওমরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে এই তদন্ত ও তল্লাশিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ এবং বিরোধী মত দমনে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে সোমবার অভিযানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই তল্লাশি বা তদন্তের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং এটি স্বাধীনভাবে বিচার বিভাগ পরিচালনা করছে। সংবাদমাধ্যমটি স্পষ্ট করেছে, ওমরের নাগরিকত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করতে হলে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া পার হতে হবে, যা এখনো আদালতে মামলা আকারে দায়ের করা হয়নি।সূত্র: আল জাজিরা।