ঢাকা    শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে শীর্ষ ১৫ দাতার অনুদান ১৫০ কোটি ডলার

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রচার তহবিলে রেকর্ড পরিমাণ অর্থের বন্যা বইছে। নির্বাচনী তহবিলের হিসাব পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ওপেনসিক্রেটস’ (OpenSecrets) ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক এক যৌথ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কেবল শীর্ষ ১৫ জন শীর্ষ ধনী দাতা মিলেই এই নির্বাচনে ১.৫ বিলিয়ন (১৫০ কোটি) ডলারেরও বেশি অর্থ অনুদান হিসেবে দিয়েছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার সমান।এই বিপুল অর্থদাতাদের তালিকায় এককভাবে শীর্ষে অবস্থান করছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তিনি একাই রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ (৩৬৫ মিলিয়ন) ডলারের বেশি অনুদান দিয়ে নতুন নজির গড়েছেন। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক প্রচারে সীমাহীন অর্থ খরচের আইনি বৈধতা পাওয়ার পর থেকে কোনো একক ফেডারেল নির্বাচনী চক্রে এটিই কোনো একক দাতার সর্বোচ্চ অনুদানের সর্বকালের রেকর্ড। মাস্কের দেওয়া অর্থের বড় একটি অংশ গেছে তাঁর নিজস্ব রিপাবলিকান-ঘনিষ্ঠ ‘আমেরিকা প্যাক’ (America PAC) এবং সিনেট লিডারশিপ ফান্ডে। রিপাবলিকানদের পক্ষে মাস্কের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিপুল তহবিল জুগিয়েছে। এর মধ্যে ‘ওয়ান নেশন’ নামের একটি তথাকথিত ‘ডার্ক মানি’ সংস্থা দিয়েছে প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এ ছাড়া ব্যবসায়ী দম্পতি এলিজাবেথ ও রিচার্ড উইহলেইন ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি এবং সিলিকন ভ্যালির ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট মার্ক আন্দ্রেসেন ও বেনিয়ামিন হোরোউইৎস যৌথভাবে ১১ কোটি ৩০ লাখ ডলার অনুদান প্রদান করেছেন।অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সুরক্ষায়ও বড় অঙ্কের তহবিল সংগ্রহ করেছে দলটির সমর্থক গোষ্ঠীগুলো। ডেমোক্র্যাট-ঘনিষ্ঠ সংস্থা ‘মেজরিটি ফরওয়ার্ড’ ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং দীর্ঘদিনের দাতা হিসেবে পরিচিত শতকোটিপতি জর্জ সরোস অন্তত ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন। এর বাইরে ক্রিপ্টোকারেন্সি সংস্থা রিপল ল্যাবস, কয়েনবেস এবং সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গও ডেমোক্র্যাট শিবিরে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ ছাড় করেছেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, গুটিকয়েক ধনকুবেরের এভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা ঢালার কারণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সাধারণ মার্কিন ভোটারদের মতামতের চেয়ে অতি-ধনীদের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। বিশেষ করে পরিচয় অপ্রকাশ্য রেখে ‘ডার্ক মানি’ অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার ব্যয়ের সুযোগ তৈরি হওয়ায় নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের নৈতিক ও আইনি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে শীর্ষ ১৫ দাতার অনুদান ১৫০ কোটি ডলার