ই'রানে হা'মলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে ইরানে নতুন করে কোনো প্রকার সামরিক হামলা চালানো হবে না বলে স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এই তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিদ্যমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক অগ্রগতির কথাও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।চলতি সপ্তাহে রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, নির্বাচনের আগেই ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের একটি সমঝোতামূলক সমাপ্তি টানার বিষয়ে তিনি বেশ আশাবাদী। তবে চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সময় আবারও পূর্ণমাত্রার সামরিক পদক্ষেপ শুরুর সম্ভাবনাও নাকচ করে দেননি তিনি।বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে ট্রাম্প লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কোনো সময়ই ইরানে কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালানো হবে না।” সেই সঙ্গে দুই পক্ষের মধ্যকার পর্দার অন্তরালের কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি যোগ করেন, “ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে বর্তমানে আমাদের অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক আলোচনা চলছে।”এর আগে গত মাসের শেষ দিকে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাব ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করার পর উভয় দেশের মধ্যকার আলোচনা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছিল। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শর্ত মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালি পুনরায় অবাধ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি দীর্ঘ সময় বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি ও তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা চলছিল।তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে স্থবিরতা কাটিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ আবার নতুন গতি পেয়েছে। গত সপ্তাহে ইরান নিশ্চিত করে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি নতুন আনুষ্ঠানিক পাল্টা প্রস্তাব পেয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, খুব দ্রুতই বা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তেহরান মার্কিন প্রস্তাবের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক জবাব দেবে। উভয় পক্ষের এই নমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ও স্থিতিশীলতার নতুন আশার সঞ্চার করেছে।সূত্র: এনডিটিভি