ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইরানে পারমাণবিক হামলার জন্য চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু: টাকার কার্লসন

ইরানের মাটির নিচের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করতে দেশটিতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি চাপ দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমন চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক টাকার কার্লসন। তাঁর মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ওয়াশিংটন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে কার্লসন উল্লেখ করেন, সম্ভাব্য হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হতে পারে মধ্য ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স পর্বত’ (Pickaxe Mountain)। ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের দাবি, গ্রানাইট পাথরের গভীর ভূগর্ভস্থ টানেলবিশিষ্ট এই পর্বতেই তেহরান তাদের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পুনরায় চালু করেছে। কার্লসনের যুক্তি, সাধারণ মার্কিন বাংকার বাস্টার বোমা এই শক্ত গ্রানাইট প্রাচীর ভেদ করে মাটির নিচের টানেলে পৌঁছাতে পারবে না; ফলে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারের পরিকল্পনা বিবেচনায় আসছে।এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে কার্লসন দাবি করেন, এ ধরনের চূড়ান্ত সামরিক অভিযানের জন্য নেতানিয়াহু ক্রমাগত চাপ দিয়ে যাচ্ছেন এবং তিনি প্রতিদিন ট্রাম্পকে ফোন করছেন। তবে কার্লসনের এই দাবির সপক্ষে কোনো স্বাধীন বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। সাম্প্রতিক নির্বাচনে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অচলাবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে কার্লসন লেখেন, ক্ষমতা হারালে তদন্ত ও কারাদণ্ডের ঝুঁকিতে পড়ার ভয়ে নেতানিয়াহুর এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া রাজনৈতিকভাবে প্রয়োজন।কার্লসন আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, সেন্টকম কমান্ডার ব্র্যাড কুপার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ নেতানিয়াহুর এই সামরিক অবস্থানের সঙ্গে একমত। এমনকি গত ২৭ সেপ্টেম্বর নেতানিয়াহু গোপনে আবুধাবি সফর করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থন চেয়েছিলেন, যা আমিরাত প্রত্যাখ্যান করে বলে তিনি দাবি করেন।সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার ভয়াবহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিণতির ব্যাপারে সতর্ক করে কার্লসন জানান, পিকঅ্যাক্স পর্বতে ভূপৃষ্ঠে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটলে পারস্য উপসাগরের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হবে এবং প্রায় ১০ কোটি মানুষের সুপেয় পানির সরবরাহ হুমকির মুখে পড়বে। পাশাপাশি রাশিয়া ইতোমধ্যে দুটি দেশকে জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রথম ব্যবহার (First-use) করলে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে তাদেরও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে সম্প্রতি দীর্ঘ ফোনালাপ হয়েছে, যেখানে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই নতুন সামরিক অভিযানের ব্যাপারে নেতানিয়াহু তাগিদ দেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান এখনো কূটনীতির পথকেই প্রাধান্য দিতে চায়। অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এখনো মনে করেন কূটনীতির মাধ্যমে চুক্তি সম্ভব; তাই চরম পারমাণবিক ঝুঁকি এড়িয়ে ওয়াশিংটনকে সমঝোতার পথে হাঁটার আহ্বান জানিয়েছেন কার্লসন।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ইরানে পারমাণবিক হামলার জন্য চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু: টাকার কার্লসন