ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ক্তরাষ্ট্র ও ই'স'রায়েলি হা'মলায় ই'রানের ২০ থেকে ৩০টি বিমান ধ্বং'স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি বিমান খাতের ২০ থেকে ৩০টি যাত্রীবাহী ও পরিবহন উড়োজাহাজ পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া সংঘাত চলাকালে দেশটির অন্তত ৭০ থেকে ৮০টি উড়োজাহাজ সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু (টার্গেট) হয়েছিল। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানী তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করেন ইরানের জাতীয় বিমান সংস্থা ‘ইরান এয়ার’-এর প্রধান নির্বাহী তাহের আবদোলহাই। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ খবর নিশ্চিত করেছে।সংবাদ সম্মেলনে তাহের আবদোলহাই জানান, ভৌগোলিক অবস্থান ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল খাতের স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে বর্তমানে প্রায় এক হাজার যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের প্রয়োজন। অথচ দেশটির কাগজে-কলমে মোট বহরে রয়েছে মাত্র ৩০০টির মতো বিমান। যুদ্ধ শুরুর আগে এই ৩০০টির মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার মাত্র ১৩০ থেকে ১৪০টি উড়োজাহাজ উড্ডয়নক্ষম বা সচল ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ধাক্কায় ২০ থেকে ৩০টি উড়োজাহাজ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, যার ফলে সচল বিমানের সংখ্যা এখন আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে নেমে এসেছে।স্থানীয়ভাবে ‘হোমা’ নামে পরিচিত দেশটির পতাকাবাহী বিমান সংস্থা ইরান এয়ারের প্রধান দাবি করেন, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের বেসামরিক উড়োজাহাজগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিশানা করেছে। অন্যান্য সংস্থার বহরের উড়োজাহাজে একটি করে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও ইরান এয়ারের একটি বিমান সরাসরি একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে গেছে।আবদোলহাই উল্লেখ করেন, বছরের পর বছর ধরে চলা কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও বিভিন্ন পশ্চিমা বিধিনিষেধের কারণে আগে থেকেই ধুঁকছিল দেশটির বিমান পরিবহন খাত। এর মধ্যে যুদ্ধপরিস্থিতি সেই সংকটকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রয়োজনীয় আসল যন্ত্রাংশের অভাব, আর্থিক তারল্যসংকট এবং লাভজনক আন্তর্জাতিক রুটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া তাদের কার্যক্রমকে পঙ্গু করে ফেলেছে। সংস্থায় বর্তমানে ৯ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত থাকলেও সচল বিমানের সংখ্যা তলানিতে ঠেকায় কার্যক্রম পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তবে সংকটে থাকা সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থ ও কৌশলগত গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে ইরান এয়ারকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সরকারি প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি।২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন পারমাণবিক চুক্তি (JCPOA) থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পর বোয়িং ও এয়ারবাসের সঙ্গে ইরানের শত শত নতুন বিমান ক্রয়ের চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। দীর্ঘদিনের সেই যন্ত্রাংশ সংকট ও অর্থনৈতিক অবরোধের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যুদ্ধ ইরানের বেসামরিক উড়োজাহাজ বহরকে এক নজিরবিহীন অস্তিত্ব সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

ক্তরাষ্ট্র ও ই'স'রায়েলি হা'মলায় ই'রানের ২০ থেকে ৩০টি বিমান ধ্বং'স