জাতিসংঘের ওপর মানুষের আস্থা হারিয়ে গেছে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতিসংঘের ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর আলজাজিরার।আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে চালানো যুদ্ধ, পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ এবং এখনো কার্যত যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করার মধ্যেই তার এবারের নিউইয়র্ক সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে ইরানি জনগণের বৈধতা, অধিকার ও স্বার্থের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরা।’ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় জাতিসংঘ তার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং মানুষের আস্থা হারিয়েছে।মঙ্গলবার ‘আস্থা পুনরুদ্ধার’ প্রতিপাদ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা উল্লেখ করে আরাগচি বলেন, এই প্রতিপাদ্যই সংস্থাটির প্রতি আস্থা কমে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে।তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা কার্যকরভাবে বজায় রাখতে ব্যর্থতার কারণে জাতিসংঘের ওপর আস্থা ক্ষয় হয়েছে, এমনকি অনেকের ক্ষেত্রে সেই আস্থা পুরোপুরি হারিয়ে গেছে—এটি সবার স্বীকৃত বিষয়।আরাগচি আরও অভিযোগ করেন, কিছু দেশ নিজেদের এমনভাবে উপস্থাপন করে যেন তাদের দায়মুক্তভাবে কাজ করার অধিকার রয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবতার সম্মিলিত বিবেককেও উপেক্ষা করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, এসব দেশ নিজেদের এবং নিজেদের মিত্রদের জন্য দায়মুক্তি দাবি করে। এর ফলে ইসরায়েলকে তিনি যে ‘অপরাধী সত্তা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, সেটিকে ইচ্ছামতো কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।একই সঙ্গে নিজেদের মানবাধিকার ও মানবিক আইনের রক্ষক হিসেবে পরিচয় দেওয়া পশ্চিমা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর নীরবতারও সমালোচনা করেন আরাগচি।জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে থাকা অবস্থায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।