নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আরব জোট নেতার হুঁশিয়ারি
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী জোট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে এবং ভবিষ্যৎ যে কোনো সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নিজেদের শর্ত জুড়ে দেওয়ার পূর্ণ রাজনৈতিক ক্ষমতা দেশটির আরব রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে রয়েছে বলে দাবি করেছেন আরব দলগুলোর ঐক্যমঞ্চ ‘জয়েন্ট লিস্ট’-এর প্রধান ড. ইউসুফ জাবারিন। শনিবার (১০ অক্টোবর) তাঁর কার্যালয় থেকে প্রচারিত এক বিশেষ বক্তব্যে তিনি নেতানিয়াহুর নীতি পরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে সম্ভাব্য সমস্ত আইনি ও রাজনৈতিক উপায় ব্যবহারের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।ইউসুফ জাবারিন স্পষ্ট করে বলেন, সাম্প্রতিক জনমত জরিপ ও রাজনৈতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী নেতানিয়াহু, চরম ডানপন্থী ইতামার বেন-গভির এবং বেজালেল স্মোট্রিচের জোটের বিকল্প কোনো সরকার গঠন করতে হলে ইহুদি বিরোধী দলগুলোর জন্য জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া কোনো বাস্তবসম্মত বিকল্প নেই। আসন্ন নির্বাচনকে নিজ ভূমিতে নিজেদের নাগরিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের একটি ঐতিহাসিক ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বর্তমান জোট সরকারের বিরুদ্ধে আরব নাগরিকদের ওপর ধারাবাহিক বৈষম্য, সহিংসতা ও উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন।তিনি জোর দিয়ে বলেন, আরব সমাজের দাবির মুখে পুনর্গঠিত জয়েন্ট লিস্ট আজ দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ শক্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা তাঁদের রাজনৈতিক দরকষাকষির সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আরব সমাজের মৌলিক দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—নির্দিষ্ট সময়সীমা ও বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে আরব অঞ্চলে অপরাধ দমন, অবৈধভাবে বাড়ি উচ্ছেদ বন্ধ করা, মাস্টার প্ল্যান অনুমোদন, তরুণ দম্পতিদের আবাসন সুবিধা এবং নেগেভ অঞ্চলের অস্বীকৃত আরব গ্রামগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা। যারা ভবিষ্যৎ সরকারে তাঁদের সমর্থন প্রত্যাশা করে, তাদের অবশ্যই এই দাবিগুলো মেনে আলোচনার টেবিলে আসতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।একই সঙ্গে তিনি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেন, গাজায় নির্বিচার হত্যাকাণ্ড এবং পশ্চিম তীরে জাতিগত নিধনের বিরুদ্ধে জয়েন্ট লিস্ট সর্বদা সোচ্চার থাকবে। আল আকসা মসজিদে ধারাবাহিক হামলা, আজান বন্ধের অপচেষ্টা এবং গির্জা ও ধর্মযাজকদের ওপর উগ্রপন্থীদের আক্রমণের তীব্র নিন্দাও জানান তিনি।এদিকে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রকাশিত ইসরাইলি জনমত জরিপ অনুযায়ী, ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট কিংবা বিরোধী ইহুদি দলগুলোর কেউই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের অবস্থানে নেই। ফলে সরকার পতনে আরব আইনপ্রণেতাদের আসনসংখ্যাই আগামী দিনের ক্ষমতার ভারসাম্যে সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে উঠছে।সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি