সৌদি আরবের সঙ্গে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের
বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে ঐতিহাসিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। চুক্তিটিকে ‘শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি’ বা ‘১২৩ চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয়।বুধবার (২২ জুলাই) মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান চুক্তিতে সই করেন। এর সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বড় ধরনের বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি হবে। দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকব্যাপী ও বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্বের আইনি ভিত্তিও তৈরি করবে এটি।[BANGVIEWS-POST:2353]তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ সমীক্ষার পর দেশটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বেসামরিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ করা হলে একই প্রযুক্তি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতেও কাজে লাগানো সম্ভব। এ কারণে সম্ভাব্য সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে পরমাণু অস্ত্র বিস্তারবিরোধী বিশেষজ্ঞ ও মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, চুক্তিগুলো পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও অস্ত্র বিস্তার রোধে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্ভাবিত উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান ব্যবহার করা হবে।সৌদি সরকার জানিয়েছে, নতুন চুক্তিটি দুই দেশের জ্বালানি খাতে বিদ্যমান সহযোগিতার সম্প্রসারণ। গত নভেম্বরে সৌদি নেতৃত্বের ওয়াশিংটন সফরের পর চুক্তিটির পথ তৈরি হয়।বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবকে নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হলে সেটি ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা হবে। ওই চুক্তিতে আমিরাত নিজস্বভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করার অঙ্গীকার করেছিল।মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সমালোচকদের উদ্বেগ নাকচ করে বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করে—এমন কোনো চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র করবে না।[BANGVIEWS-POST:2353]তবে ডেমোক্র্যাট সিনেটর এডওয়ার্ড মার্কিসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা চুক্তির সমালোচনা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রযুক্তি দেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার আগে পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানোর কথা রয়েছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতার বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে এটি।সূত্র: এপি