রুশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে পুতিনের দল
রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। প্রাথমিক ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি।কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রথম সংসদ নির্বাচন। ক্রেমলিন এই নির্বাচনকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে জনগণের সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরতে এবং যুদ্ধসংক্রান্ত নীতির প্রতি জনসমর্থন দেখাতে চায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেন ভোটগ্রহণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাদের দাবি, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মস্কোসহ রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে শত শত ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা তাসের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর এ ধরনের হামলাগুলোর মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে বড়।রাশিয়ার আঞ্চলিক গভর্নর ও নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব ড্রোন হামলায় মস্কো অঞ্চলে অন্তত তিনজন এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে আরও দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন নির্বাচন কর্মকর্তাও রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।ভোটগ্রহণের সময় রাশিয়ার ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা ও যোগাযোগ অবকাঠামোতেও হামলা হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। তবে তাদের ভাষ্য, এসব ঘটনার পরও সামগ্রিকভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে।প্রাথমিক ফলাফলে ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সময় ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে নির্বাচনের প্রথম সরকারি ফলাফল এবং ভোটার উপস্থিতির চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করার কথা রয়েছে।আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ১১ কোটি ১০ লাখ। ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলের বাসিন্দারাও নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর মস্কো এসব অঞ্চলকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দিলেও এখনো সেগুলোর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি রাশিয়া। এ ছাড়া ২০১৪ সালে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া কৃষ্ণসাগরীয় উপদ্বীপ ক্রিমিয়ার বাসিন্দারাও নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।তবে রুশ নিয়ন্ত্রিত এসব এলাকায় ভোটগ্রহণকে অবৈধ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর নিন্দা জানিয়েছে ইউক্রেন। কিয়েভ বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর প্রতি এই নির্বাচনের ফলাফল স্বীকৃতি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও শুক্রবার রাশিয়ার এই ভোটকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।এবারের নির্বাচনে রাশিয়ার ভোটাররা দুটি পৃথক ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। একটি ব্যালটে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্য থেকে পছন্দের দল বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্টেট ডুমার ৪৫০টি আসনের অর্ধেকের জন্য ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকি আসনগুলোতে সরাসরি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে ভোট হয়েছে।ক্রেমলিনের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি রুশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমায় তাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। রাশিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ‘সিস্টেমিক বিরোধী দল’ হিসেবে পরিচিত কয়েকটি ছোট দলও পার্লামেন্টে তাদের অবস্থান ধরে রাখতে পারে। এসব দল গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভোট দেওয়ার জন্য পরিচিত।অন্যদিকে, প্রকৃত বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অনুপস্থিতি, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রচার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এসব কারণে রাশিয়ার রাজনীতিতে ক্রেমলিনের প্রভাব অব্যাহত থাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একই সময়ে দেশটি অর্থনৈতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা বৃদ্ধির মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।সূত্র: আল জাজিরা