ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে শিগগিরই আলোচনা শুরু: বাণিজ্যমন্ত্রী

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ জন্য ইইউর সদস্য দেশগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়ার পর দুই পক্ষের কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইইউ রাষ্ট্রদূত ও ২৭ সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই সমাধানের পথে। বিশেষ করে ইইউর উত্থাপিত নন-ট্যারিফ বাধা দূর করতে সরকার কাজ করছে।তিনি জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ইইউর সঙ্গে এফটিএ এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার আগ্রহ জানিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখানো হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:5242]বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এফটিএ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারগুলোর একটি।তিনি জানান, আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগে ইইউ সদস্য দেশগুলোর সম্মতি প্রয়োজন। এ প্রক্রিয়া শেষ হলে উভয় পক্ষের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হবে।বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশের প্রস্তাবের বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনের ইতিবাচক সাড়া রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হলে দ্রুত কারিগরি আলোচনা শুরু হতে পারে।তিনি বলেন, সম্ভাব্য এফটিএ শুধু পণ্যের শুল্ক কমানোর বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ই-কমার্স, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, মানবাধিকার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক বিষয়ও আলোচনার অংশ হতে পারে।[BANGVIEWS-POST:5241]ইইউ রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, দুই পক্ষের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা থাকলে উভয় পক্ষই লাভবান হবে।বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।এদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানির বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কোনো দেশের প্রভাবের ভিত্তিতে নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক প্রয়োজন ও জনগণের কল্যাণ বিবেচনা করেই আমদানি সিদ্ধান্ত নেয়।তিনি বলেন, এলএনজি ও খাদ্যশস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানিতে মূল্য, মান এবং অপচয়ের বিষয়গুলো বিবেচনা করে সরকারি ক্রয় কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়।

ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে শিগগিরই আলোচনা শুরু: বাণিজ্যমন্ত্রী