ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ থাকবে না বলে অঙ্গীকার করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে গুমের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা যত প্রভাবশালী বা ক্ষমতাবানই হোন না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার কথা বলেছেন তিনি।রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।গুমের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, কোনো মা যেন আর সন্তানের অপেক্ষায় কিংবা কোনো স্ত্রী স্বামীর ফিরে আসার আশায় বছরের পর বছর চোখের পানি না ফেলেন। রাষ্ট্রকে এমন পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিরাপদ থাকবে।গুমকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রভাব শুধু নিখোঁজ ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। একটি পরিবারের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক স্থিতিও দীর্ঘদিনের জন্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।[BANGVIEWS-POST:4765]রাষ্ট্রপতি বলেন, সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনি সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। গুম ও বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এসব মৌলিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক বিরোধিতা, ভিন্নমত এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অনেক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম ও সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ বিভিন্ন সময়ে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের কথা স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।তিনি আরও বলেন, আইনজীবী ব্যারিস্টার আহমাদ বিন কাসেম আরমান, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আজমীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দীর্ঘ সময় গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখার অভিযোগ সামনে এসেছে। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও একসময় গুমের শিকার হয়েছিলেন বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে মির্জা ফখরুল জানান, যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন। এর মধ্যে ২৮৭টি ঘটনা ‘নিখোঁজ ও মৃত’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে গুমের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতাও কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।রাষ্ট্রপতি বলেন, তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। তবে ভুক্তভোগীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ বিচার ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে।গুম বন্ধ এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপনের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। ওই বিলে গুমকে স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে গুরুতর ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:4760]রাষ্ট্রপতি জানান, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে। একই সঙ্গে গুমের বিভিন্ন ঘটনার বিচার ও তদন্ত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।গুমের শিকার পরিবারগুলোর জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন মির্জা ফখরুল। তার মতে, শুধু অপরাধীদের সাজা নিশ্চিত করলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয় না। দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা এবং প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করতে হবে।রাষ্ট্রপতি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে কিন্তু প্রতিহিংসা থাকবে না, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে কিন্তু ভয়ের পরিবেশ থাকবে না এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যবহার সব সময় সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের বিষয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অপরাধী যত ক্ষমতাবানই হোক, তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে দেশে গুম, গোপন বন্দিশালা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি যেন আর ফিরে না আসে, সে জন্য রাষ্ট্র ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি