বাজারে ইলিশের নামে চন্দনা ও সুরমা বিক্রি: আসল ইলিশ চেনার উপায়
বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম অবিচ্ছেদ্য অংশ ও বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের আকাশচুম্বী দাম এবং বিপুল চাহিদাকে পুঁজি করে বাজারে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী আসল ইলিশের বদলে দেখতে প্রায় একই রকম চন্দনা ও সুরমা মাছ বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাহ্যিক সাদৃশ্যের কারণে সাধারণ ক্রেতারা প্রায়ই প্রতারিত হচ্ছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও হোটেলে রান্না করা মাছ পরিবেশনের সময় চন্দনা বা অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের সঙ্গে খাঁটি ইলিশের পার্থক্য সাধারণ ভোজনরসিকদের পক্ষে ধরা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।মূলত ইলিশ একটি অ্যানাড্রোমাস সামুদ্রিক মাছ, যা বংশবিস্তার ও ডিম পাড়ার মৌসুমে সমুদ্র থেকে বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারতের নদীগুলোতে ছুটে আসে। চমৎকার স্বাদ ও সুগন্ধের কারণে কেবল বাংলাদেশেই নয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, ওড়িশা ও আসামেও এই মাছের অপরিসীম জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে সরবরাহ ঘাটতি ও চড়া দামের সুযোগ নিয়ে বাজারে ইলিশের নামে সাদৃশ্যপূর্ণ অন্যান্য মাছ গছিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্য সতর্কভাবে খেয়াল করলেই বাজারে আসল ইলিশ খুব সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব:১. দেহের গঠন: আসল ইলিশ মাছের পেট তুলনামূলকভাবে বেশি চওড়া ও ভারী হয়, অন্যদিকে মাথা ও লেজের দিকটা ক্রমে সরু থাকে। ইলিশের দেহটি কিছুটা নৌকার মতো সুষম গড়নের হয়।২. মাথার আকৃতি: আসল ইলিশের মাথা কিছুটা লম্বাটে এবং এর অগ্রভাগ বেশ সূচালো হয়। কানকোর পর থেকেই মাছটির দেহ ক্রমান্বয়ে চওড়া হতে শুরু করে।৩. লেজের বৈশিষ্ট্য: আসল ইলিশের লেজ ইংরেজি বর্ণমালা ‘V’ অক্ষরের মতো স্পষ্টভাবে গভীর খাঁজকাটা বা চেরা থাকে। এছাড়া পাখনার রং তুলনামূলক পরিষ্কার ও সাদাটে চকচকে রূপালি আভার হয়।প্রতারণা এড়াতে ক্রেতাদের কাটা মাছের বদলে আস্ত মাছ কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাছ কেনার সময় দেহের রূপালি উজ্জ্বলতা, মসৃণ আঁশ এবং লেজ ও পেটের সুনির্দিষ্ট শারীরিক গঠন ভালোভাবে যাচাই করে নিলে নকল মাছের ফাঁদ এড়ানো সম্ভব।