ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

কিয়ামতের দিন যাদের দিকে ফিরেও তাকাবেন না আল্লাহ!

কিয়ামতের দিন হাশরের কঠিন ময়দানে যখন গোটা মানবজাতি মহান আল্লাহর করুণা, ক্ষমা ও রহমতের প্রতীক্ষায় থাকবে, তখন এমন তিন শ্রেণির ব্যক্তি থাকবেন যাদের সঙ্গে আল্লাহ কোনো কথা বলবেন না, তাদের দিকে দয়ার দৃষ্টিতে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না। বরং তাদের জন্য নির্ধারিত থাকবে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও ভয়াবহ শাস্তি। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একাধিক বিশুদ্ধ হাদিসে এই তিন শ্রেণির মানুষের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।পবিত্র কোরআনের সূরা আল-কারিয়াহতে যেমনটি ঘোষণা করা হয়েছে—সেদিন যার নেক আমলের পাল্লা ভারী হবে, সে থাকবে পরম সন্তুষ্টি ও শান্তিময় চিরস্থায়ী জীবনে। আর যার নেক আমলের পাল্লা হালকা হবে, তার চূড়ান্ত ঠিকানা হবে ভয়ংকর অগ্নিকুণ্ড ‘হাবিয়া’ নামক জাহান্নাম।সাহাবি হযরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত এক বিশুদ্ধ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির সঙ্গে আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে দয়ার দৃষ্টিতে তাকাবেন না এবং তাদের গুনাহ থেকে পবিত্র করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।১. অহংকারবশত পায়ের টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরা ব্যক্তি:ইসলামে অহংকার, আত্মম্ভরিতা ও লোকদেখানো চালচলনকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যারা নিজেদের আভিজাত্য, পদমর্যাদা বা বড়ত্ব প্রকাশের উদ্দেশ্যে পোশাক বা পরিধেয় বস্ত্র পায়ের গোড়ালি বা গাঁটের নিচে ঝুলিয়ে পরিধান করেন, তাদের ব্যাপারে হাদিসে এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইসলাম বিনয় ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়, ফলে বাহ্যিক পোশাকেও অহংকারের প্রকাশ আল্লাহ তায়ালার কাছে চরম অপছন্দনীয়।২. দান করার পর খোঁটা দেওয়া ব্যক্তি:আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দান-সদকা করা একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আর্থিক ইবাদত। কিন্তু দান করার পর সেই দানের কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া, জনসমক্ষে প্রচার করে গ্রহীতাকে লজ্জিত বা অপমান করা কিংবা উপকারের খোঁটা দেওয়ার মাধ্যমে দানের সমস্ত পুণ্য বাতিল হয়ে যায়। ইসলামে দান করার পাশাপাশি সমাজের নিঃস্ব ও অভাবী দানগ্রহীতার আত্মসম্মান ও মর্যাদা অটুট রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।৩. মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য বিক্রি করা ব্যবসায়ী:ব্যবসায়িক লেনদেনে মিথ্যা শপথের আশ্রয় নিয়ে পণ্যের কৃত্রিম গুণগান গাওয়া এবং ক্রেতাকে ধোঁকা দিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের প্রবণতা মারাত্মক অপরাধ। যারা সাময়িক জাগতিক লাভের লোভে আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য বিক্রি করে বা ওজনে কম দেয়, পরকালে তাদের জন্য কোনো রহমত অবশিষ্ট থাকবে না।ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এই তিন সতর্কবার্তা প্রমাণ করে যে কেবল নামাজ, রোজা বা বাহ্যিক ইবাদতই পরকালের মুক্তির একমাত্র মাপকাঠি নয়; বরং মানুষের অন্তরের সততা, ব্যবসায়িক নৈতিকতা, পরোপকারে বিনয় ও সহমর্মিতা রক্ষা করা ঈমানের অপরিহার্য শর্ত।

কিয়ামতের দিন যাদের দিকে ফিরেও তাকাবেন না আল্লাহ!