ঢাকা    সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ছাত্র আন্দোলনের মুখে আরও এক দেশের প্রধানের পদত্যাগ

সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন। এক বছরের বেশি সময় ধরে ছাত্রদের নেতৃত্বে সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকে ঘিরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মধ্যে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন।রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে সমর্থকদের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ভুচিচ তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, তার নয় বছরের শাসনামলে সার্বিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। এর আগে জুন মাসেই তিনি পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন।পদত্যাগের পর ভুচিচ আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নিজের দল প্রোগ্রেসিভ পার্টির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হতে চান বলে জানিয়েছেন। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, তিনি তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতে পারবেন না।রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখা এই জনতুষ্টিবাদী নেতা দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধীদের সমালোচনার মুখে ছিলেন। সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, বিভিন্ন নির্মাণকাজে নিয়ম না মেনে ব্যয় কমানো হয়েছে। ২০২৪ সালে নভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়।ওই ঘটনার পর ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়। পরে এতে শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেন। দেশটির টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচও আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নভি সাদ রেলস্টেশনের দুর্ঘটনা ভুচিচের দল প্রোগ্রেসিভ পার্টির এক যুগেরও বেশি সময়ের শাসনের ব্যর্থতার প্রতিফলন। স্টেশনটির সংস্কারকাজের সঙ্গে ভুচিচ নিজেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন বলে আন্দোলনকারীরা মনে করেন। সংস্কার করা স্টেশনটি সার্বিয়ার অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।সংগৃহীত ছবিভুচিচ সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তা পর্যায়ক্রমে পদত্যাগ করলেও এতে আন্দোলন থামেনি। পুরো গ্রীষ্মজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। পরে পুলিশের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।ভুচিচের বর্তমান মেয়াদ আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করলে তিন মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। ফলে চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই সার্বিয়ার জনগণ দুই দফা ভোটের মুখোমুখি হতে পারেন।ভুচিচ জানিয়েছেন, অক্টোবরের শেষ দিকে আগাম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর এক মাসেরও বেশি সময় পরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে আগাম নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টিও ছিল।এর আগে ভুচিচ জানিয়েছিলেন, সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রোগ্রেসিভ পার্টির নেতা হিসেবে অংশ নেবেন। ফলে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়লেও দেশটির রাজনীতিতে তার প্রভাব ধরে রাখার সুযোগ থাকছে।নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনিও প্রোগ্রেসিভ পার্টির সদস্য।এদিকে ভুচিচ প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ৪৯ জনকে ক্ষমা করেছেন। তাদের মধ্যে ২৩ জন শিক্ষার্থী এবং ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন সমর্থক রয়েছেন। সার্বিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অপরাধে তারা সন্দেহভাজন ছিলেন।ভুচিচ ওই সময়ের ঘটনাগুলোকে ‘ভয়াবহ ঘটনা, যা আমরা গত দেড় বছরে পার করে এসেছি’ বলে উল্লেখ করেছেন।আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভুচিচের প্রোগ্রেসিভ পার্টির মুখোমুখি হওয়ার জন্য দুটি পক্ষ প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর একটি হলো ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন ‘স্টুডেন্টস উইন’। অন্যটি পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইউরোপীয় সার্বিয়া’।এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সার্বিয়ার রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ ভুচিচ। ২০১৪ সালে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০১৭ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি প্রকাশ্যে সার্বিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তার সরকার রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং চীনা বিনিয়োগের জন্যও দেশটি উন্মুক্ত করেছে।

ছাত্র আন্দোলনের মুখে আরও এক দেশের প্রধানের পদত্যাগ