ঢাকা    রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত আরামকো টাওয়ার

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি করেছে দেশটির নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এর মধ্যেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা কিং আবদুল্লাহ ফিন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্টে (কেএএফডি) রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার সময় ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষের কারণে ভবনটির ক্ষতি হয়েছে।রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে রিয়াদের বিভিন্ন এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর আগে সম্ভাব্য বিপদের সতর্কতা জারি করে সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ইয়েমেনের হুথিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদ অভিমুখে আসার সময় প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।এর এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে নতুন করে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের তথ্য দেন তিনি। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি রিয়াদ ও সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল বলে জানানো হয়। তবে সেগুলো কোন স্থান থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি জোটের মুখপাত্র।এর আগে একই দিন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ লক্ষ্য করে ছোড়া আরও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার দাবি করে জোটটি। সব মিলিয়ে রোববার তিনটি ব্যালিস্টিক ও দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের তথ্য পাওয়া গেছে।এদিকে রিয়াদের কিং আবদুল্লাহ ফিন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত আরামকো টাওয়ারের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সামনে আসে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী ভবনটির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানান।প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন ভবনের একাধিক তলায় ক্ষয়ক্ষতির কথা জানান। ভবনটির কাচ ভেঙে যাওয়া এবং বাইরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিহ্নও দেখা গেছে।পরে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, হামলার ধ্বংসাবশেষ পড়ে আরামকোর প্রশাসনিক ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি সীমিত এবং এতে কেউ হতাহত হননি।রিয়াদে এ ঘটনা ঘটল ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছে সৌদি বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশের এক দিন পর।হুথি-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৭ নভেম্বর) সানার কাছে একটি গ্রামে সৌদি বিমান হামলায় ৩৩ জন নিহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই হামলার ঘটনা তদন্ত করে দেখার কথা জানিয়েছে।চলতি বছরের জুলাইয়ে সৌদি সমর্থিত বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এর পর থেকে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে হুথিরা। অন্যদিকে ইয়েমেনে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে সৌদি আরব।২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হয়।গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হলে ইয়েমেনের সংঘাতও নতুন মাত্রা পায়। এর ফলে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নতুন করে হামলার ঝুঁকিতে পড়ে।এদিকে হুথিদের সঙ্গে সংঘাত বন্ধে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবে হামলা বন্ধের বিনিময়ে ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ এবং ইয়েমেনের শাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি চেয়েছে হুথিরা। আলোচনার বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সৌদি আরবের একজন উপমন্ত্রী অর্থ দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।রিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক এলাকায় আরামকোর ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন হুথিদের ধারাবাহিক হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরব সামরিক ও কূটনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে।সূত্র : তুর্কিয়ে টুডে

রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত আরামকো টাওয়ার