আরব সাগরে নতুন নিষিদ্ধ সামুদ্রিক অঞ্চল ঘোষণা ইরানের
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আরব সাগরে নতুন একটি নিষিদ্ধ সামুদ্রিক অঞ্চল ঘোষণার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, চাবাহার উপকূল থেকে ওমান উপসাগর হয়ে আরব সাগরের একটি অংশ পর্যন্ত এই সীমাবদ্ধ এলাকা বিস্তৃত হবে।বুধবার আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্ধারিত এই এলাকায় আগে থেকে সমন্বয় ছাড়া কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে তা ইরানের বিধিনিষেধের আওতায় পড়তে পারে। তবে নতুন অঞ্চলের নির্দিষ্ট অবস্থান ও ভৌগোলিক সীমা পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেন, নতুন সামুদ্রিক এলাকার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে। এর আগে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালির বাইরে একটি সীমাবদ্ধ অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।ইরানের এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে সামুদ্রিক উত্তেজনা বেড়েছে। ইরান দাবি করেছে, হরমুজের আশপাশে কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তেহরান।[BANGVIEWS-POST:5521]এদিকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চল ও ওমান সাগরে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে একটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলার পর আগুন লাগার ঘটনাও সামনে এসেছে।হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আরব সাগরে নতুন সীমাবদ্ধ অঞ্চল কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি পরিবহনে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। তবে ইরান এই অঞ্চল কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং এর বাস্তব প্রয়োগ কতটা হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।সূত্র : রয়টার্স